এবার বাড়ি বাড়ি টিকা, লাগবে না নিবন্ধন

ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর – আগামীকাল বছরের প্রথম দিন (১ জানুয়ারি) থেকেই আবার করোনার গণটিকা কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। তৃতীয় দফার এই গণটিকা চলবে পুরো জানুয়ারি। এ দফায় নির্দিষ্ট টিকাদান কেন্দ্রের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাবেন। এই গণটিকায় ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী সব শ্রেণির মানুষ নিবন্ধন ছাড়াই টিকা নিতে পারবেন।

এই গণটিকায় পুরো মাসে ৩ কোটি ৩২ লাখ টিকার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সারা দেশে ১১ হাজারের বেশি টিম কাজ করবে। একটা টিম আট কেন্দ্রে টিকা দেবে। বুথ হবে ১১ হাজারের বেশি। পাশাপাশি সাধারণ টিকাদান কর্মসূচি ও বুস্টার ডোজ দেওয়া অব্যাহত থাকবে।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর ও করোনা টিকা বিতরণ এবং ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।

ডা. শামসুল হক বলেন, এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়া হবে। গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাব-ব্লকভিত্তিক টিকাকেন্দ্র আছে। যেমন- মোড়ল বাড়িতে, সর্দার বাড়িতে, এ রকম গ্রামাঞ্চলে টিকাদান কেন্দ্র আছে। সেই বাড়িতেই আমরা টিকা নিয়ে বসে পড়ব। আশপাশের যে দু-তিনশ ঘর আছে, তারা কেউ যেন বাদ না যায়।

তিনি আরো বলেন, এই টিকা দিতে কোনো নিবন্ধন লাগবে না। নিবন্ধন থাকলেও চলবে, না থাকলে নিবন্ধন ছাড়াই টিকা দেওয়া হবে। আমরা তাদের নাম-ঠিকানা, বয়স, পেশা সব লিখে নেব। তারপর সুরক্ষা অ্যাপে নিজেরাই নিবন্ধন করব। আর সে যদি তার ভোটার আইডি ফটোকপি করে নিয়ে আসে, সেটার পেছনে লেখে দেব।

বৃহস্পতিবার সকালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে টিকা নেওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেছেন, যারা এখনও টিকা নেন নাই তাদেরকে টিকাটা নিতে হবে। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে টিকাদান অভিযান সহজলভ্য করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে কেউ আবার সংক্রামিত না হয় এবং কেউই যেন টিকা দান কভারেজের বাইরে না থাকে। সবাইকে কোভিড -১৯ টিকা নিতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দুই দফা গণটিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে প্রথম গণটিকা দেওয়া হয় গত ৭ আগস্ট। ওই কর্মসূচির আওতায় ছয় দিনে দেশে প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছিল ৫০ লাখ ৭১ হাজার মানুষ। এরপর গত ৭ সেপ্টেম্বর এ টিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কর্মসূচি শুরু হয়ে চলে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুধু ঢাকায়। ঢাকার বাইরে চলে আরও তিন দিন ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিশেষ গণটিকাদান কর্মসূচি ঘোষণা করে। সেদিন দেশে ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯২২ ডোজ টিকার প্রয়োগ হয়। বাংলাদেশে এক দিনে করোনাভাইরাসের টিকাদানের এটাই সর্বোচ্চ রেকর্ড।

সূত্র : বার্তা২৪
এন এইচ, ৩১ ডিসেম্বর

এবার বাড়ি বাড়ি টিকা, লাগবে না নিবন্ধন

সূত্রঃ দেশে বিদেশে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: