বিদায়ী বছরে যশোরে ৬৩ জন খুন

যশোর, ৩১ ডিসেম্বর – বিদায়ী ২০২১ সালে যশোরে ৬৩ জন খুন হয়েছে। এর মধ্যে ইউপি মেম্বার, তাঁতী লীগ নেতা, কলেজছাত্র, হিজড়া, ছেলের হাতে পিতা এবং মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের কর্মচারীদের হাতে চিকিৎসাধীন ব্যক্তি খুনের ঘটনা ছিল আলোচিত। বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার, জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও পরকীয়াসহ বিভিন্ন কারণে হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ ও র‍্যাবের অভিযানে অধিকাংশ খুনে জড়িতরা গ্রেপ্তারও হয়েছে।

সূত্রমতে, বছরের প্রথম খুন হয়েছিল যশোরের কেশবপুরে। ১ জানুয়ারি সকালে উপজেলার মঙ্গলকোট-শ্রিফলা গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে কিশোর ভ্যানচালক ইদ্রিস আলীকে (১৪) হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন ২ জানুয়ারি শার্শার অগ্রভুলোটের মুক্তার সরদার নামে এক বৃদ্ধকে হত্যা করা হয়।

৭ জানুয়ারি মণিরামপুর উপজেলার খালিয়া গ্রামের মাঠ থেকে জালাল বিশ্বাস (৫৫) নামে এক চা দোকানির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১১ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে যশোরের বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের বেনোয়ালা বেগম ওরফে বেনু বেগমকে ইট দিয়ে মাথায় ও বুকে আঘাত করে হত্যা করে প্রতিবেশীরা।

১৬ জানুয়ারি রাতে ৮টার দিকে রঘুরামপুর মন্দিরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখার কথা বলে ডেকে নিয়ে বাঘারপাড়ার কলেজছাত্র শিমুল বিশ্বাসকে হত্যা করা হয়। ১৬ জানুয়ারি গভীর রাতে মণিরামপুর উপজেলার হোলি গ্রামে গৃহবধূক পারভীন সুলতানাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ১৭ জানুয়ারি বাঘারপাড়া থেকে গোফরান নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গোফরান অভয়নগরের ধূল গ্রামের বাসিন্দা। ২১ জানুয়ারি দুপুরে মতিউল্লাহ নাইম নামে এক যুবকের লাশ যশোর বিমানবন্দর এলাকার নির্মাণাধীন একটি দশ তলা ভবন থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ২৯ জানুয়ারি রাতে মৎস্য খামার থেকে বাড়ি ফেরার পথে শিরালী মদনপুর গ্রামের মুকুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

৪ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামে যশোরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চাচা আবুল কাশেমকে হত্যা করা হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি মণিরামপুরে ছিনতাইকারী সন্দেহে কলেজছাত্র বোরহান কবিরকে পিটিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ৮ ফেব্রুয়ারি শার্শার পান্তপাড়ার কাওসার আলীর পুকুর থেকে দুইদিন বয়সের এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় নবজাতকের মা ও নানীকে আটক করা হয়।

১০ ফেব্রুয়ারি ঝিকরগাছা উপজেলার গুলবাগপুর গ্রামে শিল্পী নামে এক শিশুকে হত্যা করা হয়। ১১ ফেব্রুয়ারি শহরের চাঁচড়া ইসমাইল কলোনীতে আইরিন সুলতানা রিনিকে তার স্বামী পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে করে। ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে মণিরামপুরে মামুন নামে এক যুবককে বাইসাইকেল চুরির অভিযোগে পিটিয়ে আহতের পরদিন মারা যায়। ১৬ ফেব্রুয়ারি পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী শরিফুল ইসলাম সোহাগের সহকর্মী পারভেজ বিশ্বাসকে শহরের ঘোপে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পারভেজ সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার তোতা বিশ্বাসের ছেলে। ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে মণিরামপুরে মাদ্রাসাছাত্র মামুন গাজীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১০ ফেব্রুয়ারি দিনেদুপুরে যশোর শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত কোরবান আলী পচা ২১ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে মারা যান।

২ মার্চ রাতে বলাৎকারের ঘটনা ফাঁস করার কথা বলায় যশোরের অভয়নগরে হিজড়া আলমগীরকে শ্বাসরোধে হত্যা। ৭ মার্চ রাত ৮টার দিকে নিজ মোটরসাইকেলে বাবুরহাট বাজারের নিজস্ব অফিস থেকে ছেলে কিশোর ইব্রাহিমকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের মেম্বর নূর আলী। ফেরার পথে কিছুদূর গেলে মাতৃমন্দির নামক একটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে গেলেই ৮/১০ জন সন্ত্রাসী তার পথরোধ করে। এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যা করে। তার ছেলে ইব্রাহিম মারাত্মক আহত হয়।

৯ মার্চ যশোরে শহরতলীর খোলাডাঙ্গা গ্রামের ধান ক্ষেত থেকে বাচ্চু গাজীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৫ মার্চ যশোর সদর উপজেলার ঘোড়াগাছি গ্রামে ভৈরব নদ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০ মার্চ দিবাগত রাতে বাড়িতে ঢুকে গহর আলীকে খুন করে প্রতিপক্ষরা। ২১ মার্চ রাতে সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে ফজলুল উলুম কওমি মাদ্রাসা পাশে মাঠ থেকে রাকিবুল হাসানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় অভয়নগরের ধোপাদি দপ্তরিপাড়ায় পাওনা ৩০ টাকার জন্য সেলাই রেঞ্জ দিয়ে পিটিয়ে শুকুর আলীকে হত্যা রাজু বিশ্বাস। ১৭ মার্চ ঝিকরগাছার ফুলবাড়ি গ্রামের পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী মুস্তাকিন হোসেন সুমনকে হত্যার অভিযোগে আটক হয় স্ত্রী মিনা বেগম। ৩ এপ্রিল রাতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বারবার টাকা চাওয়ায় প্রেমিকা দেবী টিকাদারকে হত্যা করে প্রেমিক এবং চরমপন্থী সদস্য পাচু বিশ্বাস। ৯ এপ্রিল রাতে যশোরে ছেলের লাঠির আঘাতে পিতা সরোয়ার হোসেন (৪৫) খুন হয়েছেন। একইদিনে চৌগাছার মাঠপাড়া গ্রামের গৃহবধূ আয়শা খাতুনকে হত্যা করে তার স্বামী হাফেজ সোহেল রানা। ১২ এপ্রিল কেশবপুরে যৌতুক দাবিতে স্ত্রী কেয়ার গর্ভের ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা।

গত ১৬ এপ্রিল কেশবপুরে পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরণে স্কুলছাত্র আব্দুর রহমান নিহত হয়। ২৬ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে মাদকাসক্ত মাহফুজুর রহমানকে যশোর শহরের চারখাম্বার মোড়ের মাদকাশক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করে পরিবার। কিন্তু মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই পিটিয়ে হত্যা করে মাহফুজকে। ভর্তির ২৬ দিন পরে লাশ হয়ে বাড়ি ফেরে মাহফুজুর রহমান। ২৭ এপ্রিল অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া গ্রামের পালপাড়ার বাড়িতে ডাকাতি করতে এসে দেবাশীষ সরকার ওরফে সঞ্জয় সরকারকে হত্যা ও ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে দুর্বৃত্তরা।

৭ মে কেশবপুরের সারাফাত হোসেন সোহানকে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। ১০ মে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরিত বোমার স্প্রিন্টারে ঝিকরগাছায় ইউপি সদস্য নাজমুল আলম লিটন খুন হন। ১২ মে রাতে শার্শা উপজেলার সাতমাইল থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে আমলা গ্রামের সাহাবুর রহমানকে হত্যা। ২০ মে শার্শা উপজেলার অগ্রভুলট গ্রামে ভাতিজার বল্লমের আঘাতে চাচা আব্দুল মজিদ (৫০) খুন হয়েছেন। ২১ মে রাতে প্রতিবেশী হাসানের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছার বেনেয়ালি গ্রামে মণিরামপুরের মাসুম বিল্লাহ হত্যা। ২৬ মে যশোরের চাঁচড়া মোড়ড়ের সৎস্য পোনা বিক্রয় কেন্দ্রের মধ্যে থেকে শফিক মাহবুব রাব্বি নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২১ মে যশোরে মস্তিষ্ক বিকৃত অজ্ঞাত এক বৃদ্ধের (৮০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

১৪ জুন চৌগাছা উপজেলার বড়খানপুর গ্রামের নাসির উদ্দিন রাব্বি খুন হয়। ১৪ জুন কেশবপুরের বড়েঙ্গা কাঠ ব্যবসায়ী, মাগুরখালী বাজার কমিটির ক্যাশিয়ার মোসলেম মোল্যার লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৪ জুন রাতে স্বামী মামুনের মারপিটে নুসরাত বেগম হিমু মারা যায়।

৫ জুলাই শহরের পূর্ববান্দীপাড়া সরদারপাড়ায় ফারহানা আক্তার বন্যাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে স্বামী ইমরান শেখ। ৯ জুলাই ঝিকরগাছার শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামের মাদক কারবারী তরিকুল ইসলাম হত্যা। ১২ জুলাই চৌগাছার লস্করপুর শ্মশান মাঠে পাটক্ষেতে স্কসটেপ দিয়ে মুখ মোড়ানো এহতেশাম মাহমুদ রাতুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। অপমানের প্রতিশোধ নিতে ভগ্নিপতি শিশির আহম্মেদ শ্যালক রাতুলকে হত্যা করে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে। আটক হয় বোন মাহমুদা মমতাজ মীমও। একইদিন শার্শা উপজেলার জিরেনগাছার জসিম উদ্দিনকে হত্যা করে বড় ভাই আব্দুর রউফ।

২২ জুলাই রাতে শহরের শংকরপুর ছোটনের মোড় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির অফিসের সামনে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সন্ত্রাসী টুনি শাওনকে কুপিয়ে হত্যা। ৩১ জুলাই সকালে শার্শার বাগআঁচড়ার হাজীপাড়া গ্রামে লাবনীকে পিটিয়ে হত্যা করে স্বামী ইমামুল ইসলাম। ২৫ জুলাই অভয়নগরের শংকরপাশার শাহিনপাড়ায় জামাই শরিফুল ইসলামকে হত্যা করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নিহত শরিফুল যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারন জামতলা গ্রামের হানিফ মোড়লের ছেলে। যৌতুকের দাবিতে ২৬ জুলাই ঝিকরগাছা উপজেলার গুলবাগপুর গ্রামের গৃহবধূ মমতাজ খাতুনকে হত্যা।

১৩ আগস্ট বড় ভাই জহুর সরদারের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছোট ভাই হাতেম আলীকে পিটিয়ে হত্যা। মাত্র ৬শ’ টাকার জন্য ২০ আগস্ট রাতে সদর উপজেলার বোলপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে রাশেদ হোসেন নিহত হয়। ২৯ আগস্ট রাতে জমিজমা নিয়ে বিরোধে এবং পরকীয়া প্রেমের কারণে দেড় লাখ টাকা চুক্তিতে শার্শায় খুন করা হয় ইস্রাফিল হোসেনকে।

২৩ সেপ্টেম্বর সদরের চুড়ামনকাটি বাজারে চুয়াডাঙ্গার আব্দুল মালেক নামে এক যুবকের কাছে পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজিকালে গণপিটুনিতে নিহত হন রবিউল। নিহত রবিউল চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের সালামত আলী মোল্লার ছেলে।

১২ অক্টোবর স্বামী জুয়েলের সাথে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী শিরিন গায়ে পেট্রোল ঢেলে খুন করে। ২৭ অক্টোবর আবুল কালামকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী স্ত্রীর সহায়তায় খুনের পর লাশ ধর্মতলা রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয়।

১৬ নভেম্বর মোস্তাক হোসেনকে খুন ও গরু ব্যবসায়ীদের ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট। ১৭ নভেম্বর যশোর শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়ায় তাঁতী লীগ নেতা আব্দুর রহমান কাকনকে পূর্ব বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ২০ নভেম্বর চৌগাছায় শওকত আলী নামে এক রাজমিস্ত্রি নিহত হয়েছেন। একইদিন যৌতুক দাবিতে বাঘারপাড়ার জামদিয়া গ্রামের ঋষিপাড়ার কার্তিকের মেয়ে সুচরিতাকে খুন করে তার স্বামী ঝিকরগাছার ছুটিপুর গ্রামের মিলন।

নিখোঁজের একদিন পর ৩ ডিসেম্বর শার্শার চাউল ব্যবসায়ী নাসির মোল্লা খুন। ১০ ডিসেম্বর সদরের রূপদিয়ার হাটবিলায় খায়রুল ইসলামকে হত্যার অভিযোগ। ১১ ডিসেম্বর যশোরে মনোয়ারা বেগম মর্জিনা হত্যার অভিযোগে তার স্বামী শহিদুল ইসলাম আটক। একইদিন শার্শার বাগআঁচড়ার মোস্তাক ধাবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে যশোর আদালতে মামলা। ১৬ ডিসেম্বর রাতে যশোরে রহিমা খাতুন নামে এক গৃহবধূকে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা। ​১৭ ডিসেম্বর শহরের বকচর হুশতলা কবরস্থান রোডে শহিদুল ইসলামের দোকানে চটপটি খেতে যাওয়া আব্দুর রহমান রাকিব সরদার নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা। ১৯ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সাব্বির হোসেন হত্যা।

এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, হত্যার ঘটনায় মামলা নিয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে আসামিদের আটক করেছে। হত্যার রহস্যও উদঘাটন করেছে। সব মামলার সকল আসামি হয়তো আটক হয়নি। তবে বেশিরভাগ মামলার আসামিকে আটক করা গেছে। এছাড়া খুনের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য জেলা পুলিশ সর্বক্ষণিক টহল-অভিযান অব্যহত রেখেছে।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/৩১ ডিসেম্বর ২০২১

বিদায়ী বছরে যশোরে ৬৩ জন খুন

সূত্রঃ দেশে বিদেশে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: