১৪৪ ধারা জারি হলেও মাঠে থাকবে বিএনপি

ঢাকা, ০৫ জানুয়ারি – দলের কর্মসূচি যে কোনো উপায়ে সফল করতে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও দলীয় কর্মসূচি ‘ভালোভাবেই’ পালন করতে হবে। আন্দোলনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কমিটি ভেঙে দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও দলের পক্ষ থেকে নেওয়া হতে পারে বলে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার জন্য পাঠানোর দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে অবশিষ্ট জেলাগুলোতে আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্রুতই এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে কেন্দ্রীয় বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৮ ডিসেম্বর নওগাঁয় জেলা সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। একই সময় একই স্থানে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মসূচি থাকায় ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত’ হওয়ার আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করে নওগাঁ জেলা প্রশাসন। এ কারণে ওই কর্মসূচি করতে পারেনি জেলা বিএনপি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, এটি বিএনপিকে প্রতিহত করতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি কৌশল। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পণ্ড করতেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নওগাঁয় এ ধরনের কৌশল গ্রহণ করেছে। এ কৌশলে আওয়ামী লীগ অব্যাহতভাবে সফল হতে থাকলে বিএনপির পক্ষে আগামীতে যে চূড়ান্ত আন্দোলনের কথা ভাবা হচ্ছে, তাতে ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ চিন্তা থেকে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে যে কোনো উপায় ঘোষিত কর্মসূচি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ নির্দেশনার পর নওগাঁয় সমাবেশ করতে দায়িত্বশীল নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে আগামী ১৮ জানুয়ারি সমাবেশ করা হবে। এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির মধ্যেই কর্মসূচি করে ফেনী জেলা বিএনপি। তবে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম হওয়ায় কমিটিকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে। সেখানে জেলা নেতাদের ব্যাপকভাবে কর্মসূচি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় দলের কঠোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত সোমবার কক্সবাজারে ১৪৪ ধারার মধ্যে সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি। বিএনপির চলমান সমাবেশগুলোতে মানুষের ঢল নামছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘১৪৪ ধারা ভেঙে বেরিয়ে আসছে মানুষ। দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জেগে উঠছে মানুষ।’

গত ১৬ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে ৩২ জেলায় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর মধ্যে নানা বাধার মধ্যেও যশোর, পটুয়াখালী ও ভোলায় কর্মসূচি করে বিএনপি। দলের শীর্ষ নেতাদের প্রশ্ন- এসব জেলার নেতারা কর্মসূচি করতে পারলে অন্য জেলাগুলো কেন পারবে না? এর পর সর্বত্র কর্মসূচি করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার পরও আমরা সমাবেশ করেছি। এ সফলতা নেতাকর্মীদের উৎসাহ জোগাচ্ছে। আগামীতে আন্দোলন-সংগ্রামে এটি নতুন উদ্দীপনা হিসাবে কাজ করবে।’

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হবিগঞ্জে জেলা বিএনপির সমাবেশে পুলিশের হামলার পরও নেতাকর্মীদের ভূমিকায় বেশ সন্তুষ্ট দলের শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া টাঙ্গাইল, বগুড়া, দিনাজপুর, গাজীপুর, জয়পুরহাট, জামালপুর, নোয়াখালী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, ঝিনাইদহ, মানিকগঞ্জ, কক্সবাজার, কিশোরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি জেলায় সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবিতে নেতাকর্মীরা যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। সারাদেশে জেলাপর্যায়ে যে সমাবেশ হচ্ছে, তাতে শুধু নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষও অংশ নিচ্ছে। চেয়ারপারসনের চিকিৎসাকেন্দ্র করে বিএনপিতে নতুন করে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। সামনে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেবে বলে আশা করি।’

জ্যেষ্ঠ এক নেতা জানান, ৩২ জেলার মধ্যে যেসব জেলা যৌক্তিক কারণ ছাড়া সন্তোষজনক কর্মসূচি করতে পারেনি, সেসব জেলা কমিটি ভেঙে দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া যেসব জেলা সমাবেশ করতে পারেনি, সেসব জেলায় নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী ১২ জানুয়ারি চাঁদপুরে সমাবেশ হবে।

গত সোমবার দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকেও খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও নতুন করে কী কর্মসূচি করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশ পাঠানোর দাবিকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীরা বেশ উজ্জীবিত। খালেদা জিয়া ইস্যুতে নেতায় নেতায় জিইয়ে থাকা কোন্দলেরও হচ্ছে নিরসন। যারা পদবঞ্চিত তারাও যোগ দিচ্ছেন এসব কর্মসূচিতে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। শুধু বিএনপি নয়, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে বিদেশে পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে। তার চিকিৎসার দাবিতে বলতে গেলে সারা দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। সরকারের অন্যায় কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে তারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে। জেল-জুলুম-হুলিয়ার ভয় না করে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে পড়েন। প্রতিটি সভা-সমাবেশে লাখ লাখ নেতাকর্মী সমবেত হচ্ছে। ১৪৪ ধারাকেও তারা পরোয়া করছে না। বলতে গেলে দলে নতুন করে পুনর্জাগরণ শুরু হয়েছে।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামী ৮ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করবে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম। সংগঠনের সদস্য সচিব নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘এ কর্মসূচি সফল করতে আমরা কাজ করছি।’

এদিকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অষ্টম বর্ষপূর্তির দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালনে আজ বুধবার ঢাকাসহ সারাদেশের জেলা শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি করবে দলটি। এ কর্মসূচির ওপরও দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে নজর রাখা হবে। দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সংশ্লিষ্ট জেলা নেতাদের কার কী ভূমিকা, সে ব্যাপারে প্রতিবেদন দিতেও বলা হয়েছে।

সূত্র : আমাদের সময়
এম এস, ০৫ জানুয়ারি

১৪৪ ধারা জারি হলেও মাঠে থাকবে বিএনপি

সূত্রঃ দেশে বিদেশে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: