টানা ৩৬ ঘণ্টা রশি টানাটানির পর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচারে মামলা

টানা ৩৬ ঘণ্টা রশি টানাটানির পর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ফেয়ার প্রাইস) চাল পাচারের অভিযোগে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাত ৯টায় মধুপুর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক আনিসুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামি হলেন, গোলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুস সাত্তার এবং ভাইঘাটের চাল ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা জহুরা জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত রবিবার রাতে ধনবাড়ী উপজেলার বাঘিল গ্রামের রজনীগন্ধা রাইস প্রসেসিং মিলে তিনি অভিযান চালান। সেখানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৭১ বস্তা চোরাই চাল জব্দ করেন। রাইচ মিলের ভৌগলিক অবস্থান ধনবাড়ী উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের জিম্মায় জব্দ চাল রেখে আসেন।

ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা সিদ্দিকা জানান, জব্দ চাল ধনবাড়ী উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মাহমুদুল হাসানের জিম্মায় রাখা হয়।

মাহমুদুল হাসান জানান, তিনি ওই চাল মিল মালিক সাদিকুল ইসলাম আমিনের জিম্মায় রাখেন। এরপর কে তদন্ত করবেন, কোন থানায় মামলা হবে এসব নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।

ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা সিদ্দিকা জানান, চোরাই চাল মধুপুর উপজেলার। অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তার মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। রাইস প্রসেসিং মিলটি মধুপুর উপজেলা হতে রেজিস্ট্রিকৃত। চাল জব্দ করেন মধুপুর উপজেলা প্রশাসন। কাজেই মধুপুর উপজেলা প্রশাসনই আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু ঘটনাস্থল ধনবাড়ী উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ধনবাড়ী উপজেলা দেখভাল করবেন বলে জানান মধুপুর উপজেলা প্রশাসন।

আরো পড়ুন: করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

এদিকে প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ব্যাপক তদবির শুরু করেন। পরে জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলামের হস্তক্ষেপে চাল চুরি ও পাচারের অভিযোগে ধনবাড়ী থানায় মামলা দায়ের হয়।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা জহুরা জানান, ৭১ বস্তা চালের মধ্যে ২৪ বস্তা ফেয়ার প্রাইসের। বাকিটা ত্রাণসহ অন্যান্য খাতের। ঘটনাস্থল ধনবাড়ী উপজেলাধীন হওয়ায় জব্দকৃত চাল ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের জিম্মায় দেওয়া হয়। ধনবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে। একটু জটিলতা থাকায় তদন্তে বেশি সময় লেগেছে।

ধনবাড়ী থানার ওসি মো. চান মিয়া জানান, এজাহারের জন্য লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগামীকাল এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, চাল নয়ছয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।

ইত্তেফাক/এএএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: