বৃদ্ধকে বিবস্ত্র করে লাঞ্ছনাকারী বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

কক্সবাজারের চকরিয়ার বৃদ্ধকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত এবং এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা আনছুর আলমকে (৪০) গ্রেফতার করেছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। বুধবার বেলা ১১টার দিকে মহেশখালীর ষাইটমারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

আটক আনছুর আলম চকরিয়ার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ায় মৃত মনির উল্লাহর ছেলে। তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

জানা গেছে, ওই বৃদ্ধকে নির্যাতনের ঘটনার ভিডিওটি নজরে আসা মাত্রই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর অভিযান নামে পুলিশ। অভিযানের শুরুতে পুলিশ তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেও প্রধান অভিযুক্ত আনছুর আলম পালিয়ে যান। তাকে ধরতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় বুধবার তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

গত ২৪ মে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ায় নির্যাতনের শিকার হন নুরুল আলম (৭২)। ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল বখাটে ঘটনাটি ঘটায়। এরপর ৩১ মে বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন চকরিয়া থানায় মামলা করেন। এতে ওই এলাকার মৃত মনির উল্লাহর ছেলে আনছুর আলম, বদিউল আলম, শাহ আলম, শাহ আলমের স্ত্রী আরেজ খাতুন, বদিউল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান, আবদুল জাব্বারের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন, জয়নাল আবেদিন এবং মনজুর আলমের ছেলে মো. রুবেলকে অভিযুক্ত করা হয়।

এজাহারে আশরাফ উল্লেখ করেন, ২৪ মে আমার বৃদ্ধ বাবা নুরুল আলম ঈদের বাজার করে ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে টমটমযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে যুবলীগ নেতা আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী টমটম থেকে আমার বাবাকে নামিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে পরনের লুঙ্গি, গেঞ্জি ছিঁড়ে উলঙ্গ করে ফেলেন। পাশাপাশি তাকে মারধর ও গালিগালাজ করেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, গ্রামের কয়েকজন যুবক এ দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করেন। এ সময় আমার বাবা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলেও কেউ রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। খবর পেয়ে আমার ছোট ভাই সিএনজিচালক সালাহউদ্দিন স্থানীয় লোকজনসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবাকে উদ্ধার করে। এরপর বাবাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

ইত্তেফাক/বিএএফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: