করোনা উপসের্গ লাকসামে ছোট ভাইয়ের পর বড় ভাই ও গাইবান্ধায় মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু

কুমিল্লার লাকসামে করোনা উপসর্গ নিয়ে ছোট ভাইয়ের পর বড় ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। ৫ দিন আগে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বিনই গ্রামে বাদশা মিয়া (৫০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টায় স্বাশকষ্টসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে নিহতের বড় ভাই আবদুল হাকিমের (৬৫) মৃত্যু হয়। পর পর দু’ভাইয়ের মৃত্যুতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তাদের বাড়ি লকডাউন করে প্রশাসন।

জানা গেছে, ৬ জুন করোনা উপসর্গ নিয়ে দক্ষিণ বিনই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে বাদশা মিয়ার মৃত্যু হয়। অপরদিকে, তার বড় ভাই আবদুল হাকিম জ্বর,সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে আজ ভোরে মৃত্যু বরন করেন। এলাকাবাসী ও স্বজনদের লাশ দাফনে অপরাগতায় উপজেলা করোনা রেন্সপন্স টিম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী ইসলামী আন্দোলন টিমের সহায়তায় লাশ দাফন করে। এ সময় উপজেলা করোনা রেন্সপন্স টিম প্রধান স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আবদুল আলী, ডাঃ আবদুল মতিন, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর আলী উপস্থিত ছিলেন।

লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুল আলী জানান, ৬ জুন বাদশা মিয়া মারা গেলেও ৪ তারিখেই তার নমুনা ল্যাবে পাঠানো হয়। কিন্তু রিপোর্ট আসেনি। পরে নিহতআবদুল হাকিমের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

অপরদিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে আবুল কালাম আজাদ (৭৩) এক মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা সদরের প্রফেসর পাড়ায় নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। পরে বিকালে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাষ্ট্রীয় মার্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। এর আগে গত শনিবার (৬ জুন) ময়েজ উদ্দিন (৬৫) নামে একই এলাকার অপর একজন মুক্তিযোদ্ধা করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভুটানি রাষ্ট্রদূতকে ফেরত দিলো ভারত

পলাশবাড়ী থানার ওসি মাসুদার রহমান বলেন, দুপুর ২টায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্থানীয় সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে রাষ্ট্রীয় মার্যাদায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকালে পলাশবাড়ী উপজেলা সরকারি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আনিছুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন ধরে সর্দি, কাশি ও জ্বরে ভুগছিলেন। গত মঙ্গলবার ( গত ৯ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন তার নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তার রির্পোট আসার আগেই তিনি বৃহস্পতিবার সকালে মারা গেলেন। তিনি বলেন, তার পরিবারের সদস্য ও তার সংস্পর্শে আসা সকলকে হোম কোয়ারান্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: