করোনার হটস্পট বগুড়া,উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু

ঢাকা,গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের পর এবার করোনা ভাইরাসে বগুড়া হটস্পটে পরিণত হয়েছে। এতে করেও মানুষের কোন চিন্তাভাবনা নেই। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই সব কিছু চলছে।

বগুড়ায় কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে চিকিৎসক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মীসহ আরও ৯৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এখন ১ হাজার ১৩৫।

এদিকে বগুড়ার বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাত ১২ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড –১৯ এ আক্রান্ত একজন এবং উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে কোভিডে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম ইলিয়াস মিঞা (৫৫)। তিনি বগুড়া শহরতলীর ধরমপুর এলাকার বাসিন্দা। আর কোভিডের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুজন হলেন বগুড়ার কাহালু উপজেলার এক যুবক (৩৬) ও শিবগঞ্জ উপজেলার এক ব্যক্তি (৫০)।

বগুড়া সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ এবং বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে আরও ১০৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর মধ্যে বগুড়ার বাসিন্দা ৯৮ জন। নতুন করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ ও একই পরিবারের চারজন সদস্য রয়েছেন। বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় এসব তথ্য জানান।

নতুন করে আক্রান্ত ৯৮ জনের মধ্যে বগুড়া শহরের ৫৬ জন, সারিয়াকান্দি উপজেলায় ২২, আদমদীঘি ৫, কাহালু উপজেলায় ৪, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৪, গাবতলী উপজেলায় ২, শাজাহানপুর উপজেলায় ২, ধুনট উপজেলায় ২ ও শেরপুর উপজেলায় ১ জন আছেন।

ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৬৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন মিলেছে ২৬২ জনের। এ পর্যন্ত করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৩৫ জন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৭৯৫ জন পুরুষ, ২৭২ জন নারী ও ৬৮ জন শিশু রয়েছে। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সর্বোচ্চ ৮৫৯ জন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার মধ্যে বগুড়া শহরে সর্বোচ্চ ৭৫৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। অন্য উপজেলার মধ্যে শাজাহানপুরে ৬৬ জন, গাবতলীতে ৫৮ জন, কাহালুতে ৩৬ জন, শেরপুরে ৪৪ জন, শিবগঞ্জে ২৪ জন, আদমদীঘিতে ২০ জন, সারিয়াকান্দিতে ৪৫ জন, সোনাতলায় ২০ জন, দুপচাঁচিয়ায় ২৩ জন, ধুনটে ২৮ জন ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় ১৩ জন আছেন।

ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোভিডে সংক্রমিত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা ৯ জুন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও নমুনা পরীক্ষায় কোভিড পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১১।

বগুড়ায় কোভিডে একজন এবং উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু

বগুড়ার বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাত ১২ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড –১৯ এ আক্রান্ত একজন এবং উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালে কোভিডে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম ইলিয়াস মিঞা (৫৫)। তিনি বগুড়া শহরতলীর ধরমপুর এলাকার বাসিন্দা। আর কোভিডের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুজন হলেন বগুড়ার কাহালু উপজেলার এক যুবক (৩৬) ও শিবগঞ্জ উপজেলার এক ব্যক্তি (৫০)।

টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র আবদুর রহিম বলেন, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও রক্ত জমাট বাঁধার উপসর্গ নিয়ে কাহালুর যুবককে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে ভর্তি করা হয়। কোভিড পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদন আসার আগেই বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা সংস্থার উপনির্বাহী পরিচালক-২ মতিউর রহমান বলেন, কোভিড পজিটিভ শনাক্ত হওয়া রোগী ইলিয়াস মিঞা বুধবার রাতে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতাল) ভর্তি হন। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে তিনি মারা যান। এ ছাড়া জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলার এক ব্যক্তিকে বুধবার রাতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে তিনিও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ইত্তেফাক/এমআরএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: