লাখ টাকা ঋণের টোপে অর্ধকোটি টাকা নিয়ে উধাও এনজিও

রাজশাহীর পুঠিয়ায় গ্রাহকদের অর্ধকোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে ‘বর্ষা মাঝদিঘা ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের এক প্যাডসর্বস্ব এনজিও। এ ঘটনায় ভূক্তভোগি গ্রাহকরা বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে উপজেলার ঝলমলিয়া বাজার থেকে ওই এনজিওর তিন মাঠকর্মীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।

জানা গেছে, কয়েক মাস আগে ‘বর্ষা মাঝদিঘা ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে উপজেলার ঝলমলিয়া এলাকায় মাজহারুল ইসলামের বাড়িতে অফিস খোলে। এরপর বিভিন্ন এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে বেকার যুবক-যুবতিদের চাকরির নামে মোটা অংকের অর্থ জামানত নিয়ে নিয়োগ দেন। পরে তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারে গ্রাহক সৃষ্টি করা হয়। মাঠকর্মীরা তিন থেকে সাত হাজার টাকা জামানতের বিপরীতে অল্প সুদে মোটা অংকের ঋণের প্রলোভনে এক হাজারেরও অধিক গ্রাহক তৈরি করেন। এরপর ভুক্তভোগি গ্রাহকদের জামানতের টাকা নিয়ে এনজিওর ঊর্ধ্বতনরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহজামাল, মো. আমিন ও দিন মুজুর নাহিদ হোসেন বলেন, এনজিওর লোকজন তাদের বলেন, যারা ৩ হাজার টাকা জামানত দিবেন তাদের ৭ দিনের মধ্যে অল্প সুদে ৫০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হবে। আর যারা ৭ হাজার টাকা জামানত দিবেন তাদের একলাখ টাকা ঋণ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন: জমি বিক্রির টাকা লুট করতে খুন করা হয় সুন্দরিকে

সে অনুসারে গত বুধবার তাদের ঋণ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা ঋণ না দিয়ে অফিসে তালা লাগিয়ে ফোন বন্ধ করে পালিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের থেকে জামানতের টাকা নেয়া তিন মাঠকর্মীকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়েছে। এদিকে ওই এনজিওর একজন মাঠকর্মী সাথী বলেন, সম্প্রতি তিনি ওই এনজিওতে ঋণ আদান-প্রদানকারী হিসাবে চাকুরি নিয়েছেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার গ্রাহকদের ঋণ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল থেকে অফিসে তালা দিয়ে ম্যানেজারসহ সকল কর্মকর্তারা ফোন বন্ধ রাখেন। অন্যদিকে ঋণ না পেয়ে গ্রাহকরা কয়েক মাঠকর্মীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।

এ বিষয়ে বর্ষা মাঝদিঘা ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার কামরুল ইসলামের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া যায়।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, টাকা নিয়ে উধাও হওয়ায় গ্রাহকরা তিন নারী মাঠকর্মীকে আটকে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তদন্ত সাপেক্ষে ওই এনজিওর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: