শিবচরে এসএসসিতে প্রথম স্থান অধিকারী গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সুমাইয়া ও তার পরিবারের পাশে চিফ হুইপ

শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের সাড়ে এগার রশি লপ্তিকান্দি গ্রামে শ্বশুরের দেয়া জমিতে ৭ বছর আগে বসবাস শুরু করেন দর্জি দেলোয়ার হোসেন। সংসার চালাতে ঢাকার সাভার, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে দর্জির কাজ করে কষ্টে চলছিল তাদের পরিবার। কয়েক বছর আগে শ্বাসকষ্টে দেলোয়ারের মৃত্যু হলে তার পরিবার সালেহা বেগম চারদিকে অন্ধকার দেখেন। নিজে ঘরে বসে দর্জি কাজ শুরু করেন। বড় মেয়ে তাসলিমা কেজি স্কুলে চাকরি করে মার সঙ্গে সঙ্গে সংসারের হাল ধরেন। আর্থিক অনটনের সংসারে সুমাইয়া বোনদের সহায়তায় কোন রকম লেখাপড়া চালিয়ে যায়। ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে জিপিএ-৫ সহ টেলেন্টপুলে বৃত্তি পায় সুমাইয়া। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পাঁচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির পর মেধাবী সুমাইয়া বিভিন্ন পরীক্ষার ফলে মনজয় করে ফেলে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের। সুমাইয়ার পরিবারের অসহায়ত্বের কথা জেনে বিদ্যালয় শিক্ষক কর্তৃপক্ষকেও তাকে নিয়মিত খাতা, কলম, বই দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।

প্রাইভেট পড়িয়ে কোন শিক্ষকও নেয়নি তার কাছ থেকে কোন টাকা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়মিত বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করে। চলতি বছর এসএসসি পরী¶ায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ গ্রহন করে সুমাইয়া। পরীক্ষার ফলে জিপিএ-৫ গোল্ডেন অর্জন করে সে। এত ভালো রেজান্ট করেও ভবিৎষত লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া নিয়ে শংকিত ছিল তার পরিবার। সুমাইয়াকে নিয়ে গত ৯ জুন অনলাইনসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়।

গত বুধবার (১০ জুন) ছিল সুমাইয়ার জন্য অন্যরকম একটি দিন। ঐদিন সকালে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের ৬ বারের সফল সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটনের পক্ষ থেকে বাড়িতে পৌছে যায় মিস্টি। তার পক্ষ থেকে বাড়িতে যায় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। দুপুর বার টা বাজতেই মুঠোফোনে সুমাইয়াসহ পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে সার্বিক খোজখবর নেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এমপি। তিনি তাৎক্ষনিক নেতৃবৃন্দদের নির্দেশনা দেন সুমাইয়ার বাড়ি সংস্কারের। ফ্লোর টাইলস ছাড়াও পলেস্তারা সুপেয় পানির ব্যবস্থাসহ নানা কিছু চিফ হুইপের ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থাপন ছাড়াও তার নির্দেশনায় জেলা পরিষদ থেকে সেলাই মেশিন, বৃত্তি ও ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে স্মার্টফোনের ব্যবস্থা করে দেন।

চিফ হুইপের নির্দেশনায় স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মো. সামচুল হক, জেলা পরিষদের সদস্য আয়শা সিদ্দিকা মুন্নী, মাদবরেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী সুলতান মাহমুদ, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুজ্জামান খান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী হাজী মো: ফজলুল হক মুন্সী, মাদবরেরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতি হাওলাদারসহ বিভিন্ন ইলেক্টনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ সুমাইয়ার বাড়ি ও স্কুলে যান।

শুক্রবার বিকালে মাদবরেরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আ. হালিম রাঢ়ী সুমাইয়া ফারহানার বাড়িতে গিয়ে তার হাতে নগদ ৫ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তার পরিবারের হাতে তুলে দেন। এ সময় তার সাথে মাদবরেরচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মনির লপ্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল সরদার, ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল কালাম হাওলাদার, নরুজ্জামান হাওলাদার, রিপন মোল্লাসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/কেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: