কামারখন্দে সড়ক নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে সেতু 

কামারখন্দে সংযোগ সড়ক না থাকলেও একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্রিজের দু পাশেই বাড়ী-ঘর আশে পাশে সড়কের চিহ্ন মাত্র নেই। তবুও নির্মাণ হচ্ছে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৮ ফুট দৈর্ঘ্যরের একটি ব্রিজ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উপজেলার জামতৈল ইউনিয়নের কর্ণসূতী গ্রামের মোক্তারের বাড়ির পাশে একটি খালের উপর ৩৮ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ হাতে নেয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা। যার নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩০ লাখ ৩ হাজার ৮৯ টাকা। আর কাজটি পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসনা কনস্ট্রাকশন।

কার্যাদেশ অনুযায়ী ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ থেকে ১৮ নভেম্বর ২০১৯ তারিখের মধ্যে (৭৫ দিন) কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসনা কনস্ট্রাকশন। বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মোক্তার হোসেন জানান, ব্রিজ নির্মাণ করতে এসে আংশিক করে চলে যায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। অনেকদিন হয়ে গেছে এখন পর্যন্ত তাদের কোন খোঁজ খবর নাই। ব্র্রিজের কাজ করায় আমার বাড়িঘর সব ধসে পড়ে যাচ্ছে।

মেসার্স হাসনা কনস্ট্রাশনের মালিক মো. খোকন জানান, ব্রিজটির একটু কাজ করার পর পিআইও সাহেব আমাকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন তারপর থেকে আমি কাজ করতে চাইলেও পিআইও সাহেব বলেন করোনার মধ্যে কাজ করা যাবে না। যার কারণে কাজটি এখনো শেষ করতে পারি নাই। বর্তমানে ওই খানে অনেক পানি জমে গেছে। পৌষ মাসের আগে আর ওই খানে কাজ করা যাবে না। আমি কাজের সময় বাড়ানোর জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বারবার আবেদন করেছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দীকা জানান, এই ব্রিজের প্রস্তাব আমি পাঠাই নাই এটা করেছে আমার আগের পিআইও জাকির হোসেন। এটা তার আমলে টেন্ডার হয়েছে আমি শুধু বাস্তবায়ন করছি। যেহেতু কাজের মেয়াদ শেষ আমি তো আর ঠিকাদারকে কাজ করতে দিতে পারি না। এ প্রকল্পের সভাপতি ইউএনও স্যার যদি সময় বাড়িয়ে দেয় তাহলে আবার কাজ শুরু করা যেতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, কোন সড়ক নেই এমন স্থানে ব্রিজটি নির্মাণের জন্য কেন প্রস্তাব পাঠানো হলো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে একই সঙ্গে যেহেতু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিকাদার কাজ শেষ করতে পারে নাই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির সাথে বসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম শহিদুল্লাহ সবুজ জানান, আমি এবং ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম রেজা সরেজমিনে পরিদর্শন করে নির্মাণাধীন ব্রিজটির আশেপাশে কোন সংযোগ সড়ক দেখতে পাই নাই। কিভাবে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে সে ব্যাপারে আমার ও ভাইস চেয়ারম্যানের জানা নেই। ব্রিজটি নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকার ফলে আশপাশের বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একটা ঘরও পরে গেছে দেখলাম।

ইত্তেফাক/আরকেজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: