কুমিল্লায় আইসিইউ সুবিধা না পাওয়ায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের একটি ভবনে স্থাপিত কোভিড-১৯ হাসপাতালে তাৎক্ষনিকভাবে আইসিইউ সুবিধা না পাওয়ায় মৃত্যুর অভিযোগে রোগীর স্বজনরা ওই হাসপাতালের অক্সিজেনের লাইন ছিঁড়ে ও দরজা-জানালা ভাংচুর করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটায়।

এসময় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যান্য রোগীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। এ ঘটনায় রোগীর তিন স্বজনকে ধরে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সোমবার কুমিল্লা কোভিড-১৯ হাসপাতালে আইসিইউতে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ওই রোগী জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমানগন্ডা এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি বয়োবৃদ্ধ।

কুমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই বৃদ্ধ করোনা রোগী। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার স্বজন ও সন্তানেরা তাকে নিয়ে সরাসরি কুমেক এর কোভিড-১৯ হাসপাতালের আইসিইউ কক্ষে ঢুকে পড়েন। এ সময় ঐ রোগীর শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণ ছিল ৩৮ শতাংশ। কিন্তু কোনো ধরনের আইসিইউ ফাঁকা ছিল না। এরই মধ্যে ঐ রোগী মৃত্যুবরণ করেন। তখন রোগীর স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালের দরজা-জানালা ভাংচুর করে এবং অক্সিজেনের লাইন বন্ধ করে ছিঁড়ে ফেলে। এতে আতঙ্কে চিকিৎসক ও চিকিৎসা সহকারীসহ সংশ্লিষ্টরা ওই ইউনিট ত্যাগ করেন। এসময় আইসিইউতে ভর্তি থাকা অপর রোগীদের স্বজনেরা ভাংচুরকারী তিনজনকে ধরে মারধর করে পুলিশের নিকট সোপর্দ করে।

কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, এখানে আইসিইউতে ১০টি শয্যা আছে, সবগুলোতে রোগী ভর্তি আছে। সকালে চৌদ্দগ্রামের ওই রোগী ও তার স্বজনেরা পিপিই পরে হাসপাতালের আইসিইউতে ঢুকে পড়েন। হাসপাতালের কর্মচারী ও চিকিৎসকদের ধারণা ছিল যে, কোভিড-১৯ হাসপাতালের লোকজনই তাদেরকে ঢুকতে দিয়েছেন। পরে ওই রোগী মারা যান।

এ সময় রোগীর লোকেরা হাসপাতালে ভাংচুরসহ অক্সিজেনের তার ছিঁড়ে ফেলেন। তাৎক্ষণিকভাবে অক্সিজেনের লাইন ঠিক করা হয়। তবে যারা ভাংচুর করেছে তাদের বাবা মারা যাওয়ায় মানবিক কারণে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআর

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: