শ্মশানের জমি বাপদাদার দাবি করে লাশ সৎকারে বাধা

কিশোরগঞ্জে শ্মশানের জমির মালিকানা দাবি মৃতদেহ সৎকারে বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (১৭ জুন) নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচন্ডি ইউনিয়নের হিন্দুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, হিন্দুপাড়া গ্রামের সুরেশ মহন্ত বর্মন (৯৫) বার্ধক্যজনিত কারণে বুধবার সকাল ১১টায় নিজবাড়িতে মারা গেলে হিন্দুপাড়ার লোকজন গ্রামের শ্মশানে লাশ দাহ করতে নিয়ে যান। এসময় পাশের উত্তরপাড়া গ্রামের মাহাতাবের ছেলে আজাহার, মাহম্মদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীরসহ অনেকেই শ্মশানের জায়গার তাদের বাপদাদার দাবি করে লাশ দাহ করতে না দিয়ে ফিরিয়ে দেন।

গ্রামের ইদ্রিস আলী চৌধুরী (৬৫) জানান, হিন্দুপাড়ার শ্মশানটি অনেক বছর আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত। এখন শ্মশানের জমির মালিকানা নিয়ে কোনো দাবি কারো থাকতে পারেনা। জায়গাটি হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশান।

আরও পড়ুন: গোয়ালন্দে নদী ভাঙন, হুমকির মুখে ঘরবাড়ি লঞ্চ ও ফেরিঘাট

অপরদিকে আজাহারুল ও জাহাঙ্গীরসহ অনেকের দাবি এই জমি তাদের বাপদাদার। এখানে আর কোনো দাহ করতে দেওয়া হবেনা।

এ ঘটনায় মৃত সুরেশ মহন্ত বর্মণের ছেলে রুহী মহন্ত বর্মণসহ হিন্দুপাড়ার লোকজন বিষয়টি কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশে অবগত করে লাশ সৎকারের জন্য আবেদন করেন।

পরে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে উভয়পক্ষকে ডেকে লাশ দাহের ব্যবস্থাসহ ঘটনা সমাধানের চেষ্টা চালায়। কিন্তু শ্মশানের জমির মালিকানা ও করোনা উপসর্গে বৃদ্ধ মারা গেছে এমন কথিত অভিযোগ তুলে প্রতিপক্ষের লোকজন লাশ দাহ করতে দিবেনা বলে অনড় থাকে। এমনকি বেশ কিছু নারী-পুরুষ এসে দাহ করার চিতা ভেঙ্গে দেয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তোজনা ছড়িয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সাংবাদিক ও ইউপি জনপ্রতিনিধিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর উত্তরপাড়া গ্রামবাসীর সঙ্গে বিষয়টি বুঝিয়ে ওই শ্মশানে দুপুরে লাশ দাহ করতে সক্ষম হয়।

রণচণ্ডি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান জানান প্রতিপক্ষের ভুলের কারণে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল তা সমাধান করা হয়। উত্তরাপাড়ার লোকজন তাদের ভুল বুঝতে পেরেছেন।

সৈয়দপুর সাকের্লের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল বলেন, কিছু মানুষের উস্কানিতে একটি পক্ষ না বুঝে লাশ দাহ করতে বাধা দিয়েছিল।

ইত্তেফাক/এসি

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: