এ্যাপ্রোচ সড়কের জন্য অপেক্ষা করা কালভার্ট ভেসে গেলো বৃষ্টির জলে!

গত দু’বছরই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়াপাড়া এলাকার সড়কটি। সেখানে জন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে পানি চলাচলে নির্মাণ হচ্ছিল একটি কালভার্ট। ইতোমধ্যে কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, বাকি ছিল এ্যাপ্রোচ সড়কটি। এরই মধ্যে গত দু’দিনের ভারি বর্ষণে পানির স্রোত আস্ত কালভার্টটি ভাসিয়ে নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সবার মাঝে একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরছে, ‘কোন পর্যায়ের অনিয়ম হলে এভাবে একটি কালভার্ট ককসিটের মতো ভেসে যেতে পারে?’

বুধবার বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়া কালভার্টটি নির্মাণ করছিলেন কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস আই এম আক্তার কামাল আজাদ। নিয়মে না থাকলেও পৌরসভার দরপত্রে কালভার্ট নির্মাণ কাজ পেয়েছিলেন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরই। তবে, কত টাকায় কাজটি করা হচ্ছিল তা সঠিক জানা যায়নি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত দুটি বছর বর্ষায় নৌকা করেই ঝুঁকি নিয়ে পার হয়েছে সকলে। কিন্তু কালভার্টটি হচ্ছে দেখে সবাই কাউন্সিলরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। কাউন্সিলর নিজে কাজটি করায় অতি দ্রুত সময়ে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। সংযোগ সড়ক তৈরিটা বাকি ছিল। তা শেষ করে আগামী মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল।

এক নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি আতিকুল্লাহ কোম্পানি বলেন, ব্রিজটি নির্মাণে কোনো রড ব্যবহার করা হয়নি। ফলে বুধবার বিকেলের দিকে ব্রিজটি বৃষ্টির জলে ফোলার মতো (ভাসমান পাতলা বস্তু) ভেসে একপাশ পানিতে তলিয়ে গেছে। উপরে যেঅংশ দেখা যাচ্ছে তাতে কোনো রড দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। শুধু সিমেন্ট আর বালির উপস্থিতি রয়েছে।

তিনি আরো জানান, ভেঙে যাওয়া ব্রিজটি থেকে মাত্র ৪০ ফুট দূরে জাপানের দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে আরও একটি ব্রিজ তৈরি হচ্ছে। অনবরত ভারি বর্ষণের পানির তোড়েও সেটি অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হওয়ায় পৌরসভার করা কালভার্টটিতে চরম এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

তবে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে নিজেকে সেতুর ঠিকাদার হিসেবে অস্বীকার করেন কাউন্সিলর আক্তার কামাল আজাদ। তিনি বলেন, সাগরের পানি যাতে ব্রিজের গোঁড়ায় না আসে সে জন্য আমরা একটা বাঁধ দিয়েছিলাম। প্রচণ্ড বৃষ্টিতে বাধের মধ্যে সাত-আট ফুট পানি জমে যায়। পানি সরানোর জন্য বাঁধটির একটা অংশ কেটে দিলে স্রোত সৃষ্টি হয়। সেই স্রোতে সেতুটি ভেঙে গেছে।

এদিকে, নিজেরা দুর্ভোগে পড়লেও এমন ঘটনার খুশি স্থানীয়রা! ব্রিজটি চালুর পর যাতায়াত শুরু হলে এমন ঘটনা ঘটলে প্রাণহানি ঘটত বলে শঙ্কা প্রকাশ করে তারা।

ইত্তেফাক/আরএ

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: