বাবা মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় কামাল লোহানী

মুক্তিযোদ্ধা, ভাষা সৈনিক, বরেণ্য সাংবাদিক কামাল লোহানীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বাদ এশা সিরাজগঞ্জে উল্লাপাড়া খান সোনতলা গ্রামের খান সোনতলা কবরস্থানে স্বাস্থ্য বিধি মেনে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাবা মায়ের কবরের পাশে তার স্ত্রী সৈয়দা দীপ্তি রানীর কবরে দাফন করা হয়েছে।

এব্যপারে উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা জানান, বিকালে তার লাশ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও আরিফুজ্জামান গ্রহন করেন। এসময় স্থানীয় এমপি তানভীর ইমাম, উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান, এসিল্যান্ড নাহিদ হাসান খান. গলপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত ওসমানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এক নজরে কামাল লোহানী

সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান কামাল লোহানী সাংবাদিকতা দিয়ে পেশাজীবন শুনি করলেও নানা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন সবসময়। এদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

কামাল লোহানী হিসেবে পরিচিত হলেও, তার পুরো নাম আবু নঈম মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান লোহানী। ১৯৩৪ সালের ২৬ জুন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার খান সনতলা গ্রামে তার জন্ম। বাবা আবু ইউসুফ মোহাম্মদ মুসা খান লোহানী। মা রোকেয়া খানম লোহানী। তাদের আসল বাড়ি ছিল সিরাজগঞ্জে চৌহালি উপজেলায়। নদী ভাঙ্গনের কারণে তারা উল্লাপাড়ার সোনতলা গ্রামে এসে বাড়ি করেন ।

আরও পড়ুন: হালদায় দ্বিতীয় দফায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকার মধ্যে কলকাতার শিশু বিদ্যাপীঠে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। দেশভাগের পর ১৯৪৮ সালে চলে আসেন পাবনায়। পাবনা জিলা স্কুল থেকে ভাষা আন্দোলনের বছরে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। এ সময় তিনি যুক্ত হন রাজনীতিতে। যোগ দেন পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টিতে। পাবনায় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলন যোগ দেন। এরই মধ্যে পাবনা অ্যাডওয়াার্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পরই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি টানেন তিনি। যুক্ত হন রাজনীতি, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতিচর্চায়। ১৯৬০ সালে চাচাতো বোন সৈয়দা দীপ্তি রানীকে বিয়ে করেন কামাল লোহানী। ২০০৭ সালের ২৪ নভেম্বরে তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের অনুপ্রেরণাদাত্রী স্ত্রী দীপ্তি লোহানীর প্রয়াণে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন কামাল লোহানী। এই দম্পতির এক ছেলে ও দুই মেয়ে সাগর লোহানী, বন্যা লোহানী ও ঊর্মি লোহানী। মুক্তিযুদ্ধের সময় কামাল লোহানী স্বাধীন বাংলা বেতারের সংবাদ বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দায়িত্ব নেন ঢাকা বেতারের। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিধ্বস্ত বেতারকে পুনর্গঠনে মনযোগী হন।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে তৎকালীন ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে ধারাবিবরণী দিয়েছিলেন কামাল লোহানী।

ইত্তেফাক/এসি

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: