বয়স্ক ভাতার কার্ড জোটেনি তাদের

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশবা যুগিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুভা রানী, বয়স ৭৫ বছর। স্বামী মারা গেছেন দশ বছর আগে। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি বাঁশের চাই, কুলা, ডালি, খাঁচা (কৃষি যন্ত্রপাতি) ইত্যাদি তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

বর্তমানে বয়সের ভারে তিনি অনেকটা কর্মশক্তি হারিয়েছেন। ফলে আগের মত কাজ করতে পারেন না। তাই অনেকটা অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাঁটে তার। অথচ তার কপালে জোটেনি বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড এমনকি মেলেনি কোন সরকারি সহায়তা। ভালভাবে বেঁচে থাকার জন্য তিনি একটি বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড চান।

সুভারানীর বলেন, আমার চার ছেলে সন্তান এর মধ্যে দুই ছেলে মারা গেছে। বাকি দুই ছেলে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতে ঘরজামাই হিসাবে রয়েছে। আমি আমার স্বামীর ভিটায় একটি ছোট ছাপড়া ঘরে কোনরকমে বসবাস করছি। বর্তমানে করোনার কারণে অনেক কষ্টে আছি। এখন পর্যন্ত কোন ধরনের সরকারি সহায়তা পাইনি।

একই অবস্থা রণচণ্ডি ইউনিয়নের সোনাখুলি গ্রামের মৃত শিরচান আবদালের কন্যা বামনী বেগমের। বামনী বেগমের বয়স ৬৪ বছর। বামনীর বিয়ের পর তার কোন সন্তান না থাকায় ১০ বছর আগে তার স্বামী বামনীকে রেখে অন্যত্র আর একটি বিয়ে করেন। সেই থেকে বামনী জীবন বাঁচাতে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। বর্তমানে বয়স বেড়ে যাওয়ায় বামনী আর মানুষের বাড়িতে আগের মত কাজ করতে পারে না।

বামনী অভিযোগ করে বলেন, আমার ইউনিয়নের মেম্বার ও চেয়ারম্যানের কাছে অনেক ধর্না দিয়েছি সরকারি যে কোন একটি সহায়তার জন্য কিন্তু তারা কোন কর্ণপাত করেননি।

এরকম অবস্থা বাহাগিলি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কবিরাজপাড়া গ্রামের মৃত রহিমুদ্দিনের স্ত্রী আলিজা বেগমের তিনিও একটি বিধবা ভাতার কার্ডের চান।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিছুল ইসলাম আনিছ , সুভারানীর বর্তমান অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। এবার তাকে অবশ্যই সরকারের বিধবা ভাতা কিংবা যে কোন সুবিধা প্রদান করা হবে।

রণচণ্ডি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোকলেছার রহমান বিমান বলেন, বামনীর বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এমআরএম

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: