২৬ প্রকল্পের ৮০ লাখ টাকা ৮ মেম্বারের পেটে!

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার উমারপুর ইউনিয়নে ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত যতগুলো টিআর, কাবিখা, কর্মসৃজন ও এডিপির প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, তার মধ্যে ২৬ প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ বা আংশিক করে প্রায় ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে পরিষদের আট মেম্বার।

শুক্রবার বিকালে শৈলজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে এমন অভিযোগই করলেন উমারপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু বাসিন্দা। হাজী আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উমারপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল, আবুল হোসেন মাস্টার, আব্দুর রোউফ, মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।

এ সময় প্রকল্প রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসায় বরাদ্দের টাকায় কাজ না করে আত্মসাত্ করা হয়েছে দাবি করে উপস্থিত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের কাছে প্রকল্পসমূহের দুর্নীতির তালিকা তুলে ধরা হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাথরাইলের ছালাম ফকিরের বাড়ি হতে হাপানিয়া বাজার পর্যন্ত এবং পাথরাইল কালামের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পে ৭১ জন শ্রমিক বাবদ ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো কাজ না করে মেম্বার পরশ আলী পুরো টাকা তুলে আত্মসাত্ করেছেন।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাথরাইল এফতেদায়ি মাদ্রাসা উন্নয়নে টিআর প্রকল্পের ৮০ হাজার টাকা মেম্বার মনজু সরকার আত্মসাত্ করেছে। এছাড়া অন্য ২৪টি প্রকল্পে একইভাবে মহাদুর্নীতি অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

বক্তারা বলেন, পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রাশেদুল হাসান, ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল কাদের, ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হাকিম, ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মজিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হেলাল উদ্দিন, ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আরফান আলী, ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পরশ আলী এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মজনু সরকার নিজ নিজ এলাকায় গত কয়েক বছরে ২৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের সভাপতি হয়ে কাজ না করে প্রায় ৮০ লাখ টাকা আত্মসাত্ করেছেন।

এছাড়া বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফ, গর্ভকালীন ভাতার কার্ড টাকার বিনিময়ে প্রদান করেছেন। পুরো ইউনিয়নবাসী তাদের দুর্নীতি অনিয়মের কারণে অতিষ্ঠ। তখন বক্তারা মেম্বারদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তপূর্বক তাদের শাস্তি দাবি করেন।

উমারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি এসব কাজের প্রতিবাদ করায় কতিপয় প্রভাবশালীর ইন্ধনে মেম্বাররা আমার বিরুদ্ধে নানা মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করেছে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঐ আট ইউপি সদস্যের পক্ষ থেকে ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রাশেদুল হাসান মোকলেস বলেন, ঐ সংবাদ সম্মেলনে আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। চেয়ারম্যান ষড়যন্ত্রমূলক তার লোকজন দিয়ে এ মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করিয়েছে।

এদিকে চৌহালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজনু মিয়া জানান, উমারপুরে চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের সহযোগিতায় চরাঞ্চলকে আধুনিকায়নে আমরা দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যারা অনিয়ম করছে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: