রৌমারীতে ফের বন্যা

প্রথম দফা বন্যার ধকল কেটে না উঠতেই আবারও কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বন্যার দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপর দিকে ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবরী জেলার মানকারচর থানাধীন কালো নদী দিয়ে পাহাড়ি ঢল সীমান্ত ঘেষাঁ জিঞ্জিরাম নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার প্রায় শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং পানিতে ডুবেছে প্রায় পাঁচ শতাধিক হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল।

নতুন করে বন্দবেড় ইউনিয়নের কুটিরচর, কান্দাপাড়া, টাঙ্গারীপাড়া, বাইশপাড়া, যাদুরচর ইউনিয়নের চাক্তাবাড়ি, দিগলেপাড়া, নতুনগ্রাম, ধনারচর নতুনগ্রাম, চরেরগ্রাম, হাট মোল্লাপাড়া, পাখিউড়া, রৌমারী সদর ইউনিয়নের ঠনঠনিপাড়া, ভুন্দুরচর, বারবান্ধা, চুলিয়ারচর, চান্দারচর, নওদপাড়া, ব্যাপারী পাড়া, খাটিয়ামারী, রতনপুর, চরবামনেরচর, মোল্লারচর, শৌলমারী ইউনিয়নের বেহুলারচর, সুতিরপাড়, বোয়ালমারী, কলমেরচর, গয়টাপাড়া, চরশৌলমারী ইউনিয়নের ঘুঘুমারী, খেদাইমারী, চরখেদাইমারী, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ইটালুকান্দা, চরগয়টাপাড়া ও ছাটকড়াইবাড়ীসহ উপজেলার প্রায় ১১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় আটশ পরিবার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, আগের বন্যার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা তাদের ঘরবাড়ি মেরামত ও বীজতলা ফেলেছেন। কিন্তু আবারো নতুন করে বন্যার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় কৃষকদের অনেক ক্ষতি হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নামের তালিকা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬টি ইউনিয়নে ২৪ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য প্রায় তিনশ খাদ্যের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। যাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসি

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: