বগুড়ার শেরপুরে হাটের জায়গা দখল করে পজিশন বাণিজ্য

বগুড়ার শেরপুরে চৌবাড়িয়া বথুয়াবাড়ী জিগাতলা হাটের জায়গা দখল করে ‘পজিশন বাণিজ্যে’র অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিটি দোকান ঘরের পজিশন বিক্রি করা হচ্ছে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকায়। এভাবে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ একটি প্রভাবশালী চক্র। এদিকে এই দখলবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তারা হাটের জায়গায় অবৈধভাবে দখল ও ঘর নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক, জেলার পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলার খানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত ও তার পক্ষ থেকে দেওয়া ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, শেরপুর উপজেলার চৌবাড়িয়া মৌজায় ৪০ শতক জমির ওপর ‘চৌবাড়িয়া বথুয়াবাড়ি জিগাতলা নতুন বাজার’ নামে ওই হাটের অবস্থান। এলাকার চান্দু মন্ডল নামে এক ব্যক্তি এই হাটের জায়গা দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এমনকি হাটের জায়গায় জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ ওই চক্রটি হাটের জায়গা জোরপূর্বক দখল এবং ঘর নির্মাণ করে নতুন করে বরাদ্দ দেয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এভাবে ‘পজিশন বাণিজ্যে’ মেতে উঠেছেন তারা।

সরেজমিন, চৌবাড়িয়া জিগাতলা হাটের পশ্চিম পাশের ফাঁকা জায়গা অবৈধ দখলদারদে দেখা গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এবং পাহারায় চার-পাঁচজন শ্রমিক একেকটি দোকানের পজিশন আকারে বাঁশ-কাঠ ব্যবহার করে টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ করছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্ত চান্দু মন্ডল নিজেকে গরীবের নেতা দাবি করে বলেন, হাটের এই জায়গায় অনেক গর্ত ছিল। তাই এলাকার ২৮জন দরিদ্র মানুষ এক হয়ে এই জায়গায় বালি-মাটি ফেলে ভরাট করেছেন। এখন তারাই টিনের ঘর তুলছেন। যাতে এখানে ছোট-খাটো ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন। তাই পজিশন বিক্রি ও বাণিজ্যের কোন প্রশ্নই ওঠে না বলে দাবি করেন তিনি।

তবে খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা রহস্যজনক ভূমিকায় রয়েছেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জামশেদ আলাম রানা এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকদিন আগে ওই হাটের জায়গা দখলের খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। পাশাপাশি হাটের জায়গা অবৈধভাবে দখলে নিয়ে সেখানে জোরপূর্বক দোকানঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। এরপর আবার ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে-এমন খবর জানা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

ইত্তেফাক/এসি

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: