পদ্মায় তীব্র স্রোতে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি পদ্মা নদীতে আসায় স্রোতের গতিবেগ তীব্র আকার ধারণ করেছে। তীব্র স্রোতে শুক্রবার সকালে শিমুলিয়া ঘাট থেকে কাঁঠালবাড়ি ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে ২টি ফেরি ও একটি লঞ্চ। স্রোতের গতিবেগ তীব্র আকার ধারণ করায় স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে যায় দুটি ফেরি ও একটি লঞ্চ। বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত একটি ফেরি ও লঞ্চ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রো রো একটি ফেরি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ নৌরুটে সকাল ১১ টা থেকে বন্ধ রয়েছে সকল ফেরি চলাচল। ঘাটের উভয় পারে আটকে আছে প্রায় ৬ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় আবারও পানি বাড়তে শুরু ড়েকরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ সে.মি. পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্রোতের গতিবেগ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এদিন বিপদসীমা ছুয়েছে পানি। সকালে শিমুলিয়া ঘাট থেকে রো রো ফেরি শাহ্ মখদুম ও কেটাইপ ফেরি কেমিলিয়া যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে রওনা দিলে মূল পদ্মায় এসে তীব্র স্রোতে তোড়ে বিপত্তিতে পরে। কোনমতে ফেরি ২টি বিকল্প চ্যানেলের মুখে এসেও ঘূর্ণিস্রোতের তোড়ে পড়ে। ডুবোচরের কারণে সরু হয়ে পড়া বিকল্প চ্যানেলের মুখে ফেরি ২টি না ঢুকতে পেরে পেছনের দিক যেতে থাকে। কেটাইপ ফেরি কেমিলিয়াও প্রায় ৩ কিলোমিটার ভাসিয়ে নিয়ে যায় স্রোতে আইটি জাহাজ দিয়ে চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফেরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। অপর রো রো ফেরিটি স্রোতে তোড়ে প্রায় ৬ কিলোমিটার ভাসিয়ে নিয়ে যায়। রো রো ফেরিটি এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আইটি জাহাজ পাঠিয়ে ফেরিটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উভয় ফেরিতে যানবাহন ও যাত্রী রয়েছে। এদিকে একই ঘাট থেকে প্রায় ২শ যাত্রী নিয়ে এমএল শ্রেষ্ঠ ২ লঞ্চটির পাখা ভেঙ্গে প্রায় ৭ কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে যায়। খবর পেয়ে মালিক পক্ষ আরো ২টি লঞ্চ নিয়ে লঞ্চটি থেকে যাত্রীদের উদ্ধার করে। প্রায় ৩ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে লঞ্চ উদ্ধার করা হয়। এদিকে পদ্মায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে প্লাবিত হয়েছে ঘাটের পল্টুনগুলো। ঘাটের উভয় পারে আটকে আছে পন্যবাহী ট্রাক, এ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন।

বিআইডব্লিউটিএ’র কাঁঠালবাড়ী লঞ্চ ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, শিমুলিয়া ঘাট থেকে আসা একটি লঞ্চের পাখা ভেঙে গেলে স্রোতে ভেসে যায় লঞ্চটি। পরে অন্য লঞ্চ গিয়ে যাত্রীদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

বিআইডব্লিউটিসি কাঠালবাড়ি ঘাটের ম্যানেজার মো. আলীম মিয়া বলেন, শুক্রবার সকালে দুটি ফেরি যানবাহন নিয়ে শিমুলিয়া ঘাট থেকে কাঁঠালবাড়ি ঘাটের উদ্দেশে রওয়ানা দিলে মূল পদ্মা নদীতে আসলে তীব্র স্রোতে ফেরি দুটিকে অনেক দূর ভাসিয়ে নিয়ে যায়। পরে উদ্ধারকারী দুটি জাহাজ এসে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত একটি ফেরি কেমিলিয়াকে উদ্ধার করে শিমুলিয়া ঘাটে নিয়ে যায়। রো রো ফেরিকে এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি উদ্ধারকারী জাহাজ। এ ঘটনার পর সকাল ১১ টা থেকে এ রুটে সকল ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। কাঁঠালবাড়ি ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ৬ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক, এ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন।

ইত্তেফাক/কেকে

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: