গোয়ালন্দে বন্যা পরিস্থির অবনতি, বাড়ছে দুর্ভোগ

দ্বিতীয় দফায় পদ্মানদীর পানি বাড়তে থাকায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ঘর-বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় পনিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। এদিকে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যর সংকট দেখা দিয়েছে।বাড়ছে পানিন্দী মানুষের দুর্ভোগ।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৬ টা পর্যন্ত চব্বিশ ঘণ্টায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম, উজানচর ও ছোট ভাকলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়ে প্রায় সাড়ে সাত হাজার পরিবার পনিবন্দী। পাশাপাশি ভাঙ্গনের আশংকায় রয়েছে অনেক পরিবার। তলিয়ে গেছে পাট, ধান, সবজিসহ অন্তত ১০০ হেক্টর জমির ফসল।জমি তলিয়ে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হয়েছে। এদিকে পর্যাপ্ত ত্রাণ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পানিবন্দী মানুষ।

রবিবার উপজেলার উজানচর ও দৌলতদিয়া ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে শুধু পানি আর পানি। অর্ধ ডুবন্ত অবস্থায় ঘর-বাড়ি বন্যার পানিতে ভাসছে। মাঠের কোথাও পাট ছাড়া কোন ফসল জেগে নেই। অনেক কৃষক অর্ধ ডুবন্ত পাট গাছ কেটে নিচ্ছে। বন্যাকবলিত মানুষ নৌকার ওপর রান্না করে দিন-রাত পার করছে। চোর-ডাকাতের ভয়ে কেউ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র যাচ্ছেনা।

আরও পড়ুন: ফাহিমের লাশ দাফন, আদালতে খুনের অভিযোগ অস্বীকার হ্যাসপিলের

দৌলতদিয়া তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়ার কৃষক হানিফ ফকির (৫৫) রবিবার বেলা এগারটার দিকে হানিফ ফকির ও তার স্ত্রী ঘর থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করে অন্যত্র যাচ্ছিলেন। আলাপকালে তারা বলেন, ১০-১২ দিনের বেশি হলো পানিতে ভাসছি। কোথাও দাঁড়ানোর জায়গা নেই। কেউ আমাগো খোঁজও নিলনা। কি অবস্থায় আছি, কি খাচ্ছি কোন মেম্বার-চেয়ারম্যান কেউ খোঁজ নেয়নি। এমনকি কোন সাহায্য সহযোগিতাও পায়নি।

দৌলতদিয়া করনেশনা গ্রামের সকিনা বেগম বলেন, ‘১০-১২ দিন ধইরা ঘরে-পানি উঠেছে। পায়খানা ডুবে গেছে। রান্না করতে পারিনা। এই পানির মধ্যে পড়ে আছি মরলাম না কেউ বাঁচলাম কেউ খোঁজ নেয়নি। মেম্বার, চেয়ারম্যান কেউ আসেনি।’

স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল গফুর খান বলেন, ‘ওয়ার্ডের হাসেন মোল্লা পাড়া, নৈমদ্দিন খার পাড়া, তমিজ উদ্দিন মৃধা পাড়া, দুলাল বেপারী পাড়া, সিরাজ খার পাড়া, সৈদাল খার পাড়ার প্রায় পাঁচশত পরিবার ১৫ দিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় আছে।এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে তেমন কোন বরাদ্দ পায়নি। এসব এলাকার মানুষজন প্রতিনিয়ত আমার কাছে আসছে। আমি এদের কোথা থেকে দিব। বিষয়টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘উপজেলার ছয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। তবে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শ্রেণি পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে না।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবু সাঈদ মণ্ডল বলেন, উপজেলার উজানচর, দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের সাড়ে সাত হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার ২ হাজার ৪৫০টি পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল ও ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। রবিবার জেলা প্রশাসকের কাছে আরও ৫০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএএম

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: