মির্জাপুরে বন্যার পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দী ৫০ হাজার পরিবার

মির্জাপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে বংশাই-লৌহজং নদীর আশপাশে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এসব এলাকার পানিবন্দী ৫০ হাজার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তলিয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী দেওহাটা গরুর হাট।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বংশাই ও লৌহজং নদীর পানির চাপ বেড়ে গিয়ে পৌরসভার পুষ্টকামুরী, ত্রিমোহন, গাড়াইল, কুমারজানি এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। অসহায় পরিবারগুলো এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সাহায্য না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ বলেন, ফতেপুর, লতিফপুর, মহেড়া, জামুর্কি, বহুরিয়া, ভাওড়া, ভাদগ্রাম, ওয়ার্শি, বানাইল এবং আনাইতারা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি, রাস্তা-ঘাট ও ফসলি জমি ডুবে গেছে। এছাড়া বরাটি হাট, দেওহাটা গরুর হাট, মাঝালিয়া, ফতেপুরসহ বেশ কয়েকটি হাটে পানি ওঠায় বিপাকে ব্যবসায়ীরা। বংশাই নদীর ফতেপুর, হিলড়া আদাবাড়ি, থলপাড়া, বৈন্যাতলী, চাকলেশের, গোড়াইল, গাড়াইল, পুষ্টকামুরী পুর্বপাড়া, বাওয়ার কুমারজানি, ত্রিমোহন, বান্দরমারা, যুগিরকোপা, রশিদ দেওহাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। কয়েক শতাধিক পরিবার হারিয়েছে তাদের বাড়িঘর।

একই অবস্থা লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, বহুরিয়া, কামারপাড়া, নাগরপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় আঞ্চলিক রাস্তা ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

এদিকে বংশাই নদীর থলপাড়া ব্রিজ, ত্রিমোহন বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন ব্রিজ, লতিফপুর ব্রিজ, লৌহজং নদীর গুনটিয়া ব্রিজ, বরাটি বাবু দুঃখীরাম রাজবংশী ব্রিজ, পুষ্টকামুরী ব্রিজ, পাহাড়পুর ব্রিজ এবং ওয়ার্শি ব্রিজ হুমকির মুখে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম বলেন, বন্যায় নদী ভাঙন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা প্রদান করা হবে।

ইত্তেফাক/এএম

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: