কামারখন্দে ভিজিএফের চাল ওজনে কম 

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ভিজিএফের চাল ওজনে কম ও একজনের চাল অন্য ব্যক্তিকে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য ও চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারের বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেলে ভদ্রঘাট ইউনিয়ন নান্দিনা কামালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে চাল বিতরণকালে এ সমস্ত অভিযোগ করেন কয়েকজন কার্ডধারী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় দুঃস্থ, অতিদরিদ্র পরিবারকে পরিবার প্রতি ১০ কেজি হারে উপজেলায় ৭ হাজার ৬০৪ পরিবারের জন্য ৭৬.০৪০ মেট্রিক টন চালের বরাদ্দ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ভদ্রঘাট ইউনিয়নে ১ হাজার ৫৯০ জনের জন্য চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। ভদ্রঘাট ইউনিয়নে চাল বিতরণের জন্য তিনটি বিতরণ কেন্দ্র খোলা হয়। এর মধ্যে নান্দিনা কামালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪২৬টি কার্ডের জন্য নির্ধারিত ২৩৭ বস্তা চাল সরবরাহের জন্য চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বুঝে নেন ট্যাগ অফিসার। কিন্তু ইউপি সদস্য কালাম, হাওয়া, হাশেম, নুরু এবং ট্যাগ অফিসার উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের উপস্থিতিতে চাল ওজনে কম ও একজনের চাল অন্য অন্য ব্যক্তিকে দেয়ার অভিযোগ করে কয়েকজন কার্ডধারী।

গাড়াবাড়ী গ্রামের কার্ডধারী আব্দুল জলিল জানান, আমার নাম ডাকার পর আমি চাল নিতে গেলে মালেক মেম্বারের ছেলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে আমার চালসহ কমপক্ষে ১০ জনের চাল সে তুলে নিয়ে যায়। চৌদুয়ার গ্রামের কার্ডধারী আমেনা বেগম জানান, আমাকে ৭ কেজি চাল দেয়া হয়েছে। এদিকে আরেক কার্ডধারী দেলবারের চাল মেপে দেখা যায় তার বস্তায় ভিজিএফের চাল ১০ কেজির কেজির স্থলে দেয়া হয়েছে ৮ কেজি ৭০০ গ্রাম। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য আবুল হাশেম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একজনের চাল অন্য জনকে দেয়া হয়নি আর চাল ওজনে কাউকে কম দেয়া হয়নি। সকল কার্ডধারীকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে।

ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, কার্ডধারীদের মূলত আমি শনাক্ত করবো না, শনাক্ত করবেন মেম্বাররা। চাল যেন কার্ডধারীর বাহিরে না দেয়া হয় ও ওজনে যাতে কম না হয় সে বিষয়টি আমি দেখছি। গ্রাম পুলিশদের চাল মাপতে অনেক সময় কম বেশি হতে পারে। আমি যতক্ষণ আছি ততক্ষণ ৯ কেজি ৮০০ গ্রাম করে চাল দেয়া হচ্ছে। ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানান, নান্দিনা কামালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের নির্ধারিত চাল ও উপকারভোগীর সংখ্যা ট্যাগ অফিসারকে বুঝিয়ে দিয়েছি। আমি তো আর ওই কেন্দ্রে ছিলাম না। প্রকৃত কার্ডধারীকে ১০ কেজি হারে চাল বিতরণ নিশ্চিত করবেন ট্যাগ অফিসার ও ইউপি সদস্যরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, যারা চাল কম পেয়েছেন তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে চাল কম ও একজনের চাল অন্য ব্যক্তিকে দেয়ার বিষয়টি তদন্ত করে প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইত্তেফাক/আরকেজি

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: