খুলনার মশিয়ালী ট্রিপল মার্ডার মামলা ডিবিতে

খুলনার খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী গ্রামে সন্ত্রাসী জাকারিয়া বাহিনীর গুলিতে তিন গ্রামবাসী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওপর হস্তান্তর করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকা-ের ১০দিন পর মামলাটি ডিবির নিকট হস্তান্তর করা হলো। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে ডিবির ইন্সপেক্টর এনামুল হককে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) কানাই লাল সরকার জানান, খানজাহান আলী থানার ট্রিপল হত্যা মামলাটি গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় ডিবির নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসী বাহিনীর গুলিতে তিন গ্রামবাসী ও ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর পিটুনিতে সন্ত্রাসী বাহিনীর এক সদস্যসহ চারজন নিহতের ঘটনায় গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি এখনো অনুসন্ধান কাজ করছে। তদন্ত শেষে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ইন্সপেক্টর এনামুল হক বলেন, গত শনিবার সন্ধ্যায় মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। রবিবার থেকে তদন্ত কাজ শুরু করেছি।

এর আগে মশিয়ালী গ্রামের চারজন নিহতসহ হত্যাকাণ্ডের আগে-পরের ঘটনাসংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) এস এম ফজলুর রহমানকে প্রধান করে গত ২১ জুলাই চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশিকিউশন) মো. আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) কানাই লাল সরকার ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) শিপ্রা রাণী দাস।

আরও পড়ুন: রংপুরে জাপা মহাসচিব পদে রাঙ্গাকে পুনর্বহালের দাবি, বাবলুকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

এদিকে গুলি করে তিনজনকে হত্যা করার মূল হোতা বহিস্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা শেখ জাকারিয়া হাসান ও তার ভাই মিল্টনসহ বাকি ১৮জন আসামি এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। গত ১০ দিনেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মুজিবর নামে মশিয়ালী গ্রামের এক ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক জাকারিয়া হাসান এবং তার ভাই জাফরিন ও মিল্টন পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় গ্রামের বেশ কয়েকজন জাকারিয়ার বাড়িতে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে যায়। এ সময় জাকারিয়ার সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জাকারিয়া, জাফরিন ও মিল্টন তাদের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। গুলিতে মশিয়ালী গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম, গোলাম রসুল ও সাইফুল ইসলাম নিহত হয়। অপরদিকে, বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে সন্ত্রাসী জাকারিয়া বাহিনীর সদস্য ও জাকারিয়ার চাচাতো ভাই জিহাদ শেখ মারা যায়। এ ঘটনার পর খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগ থেকে জাকারিয়া বহিস্কার করা হয়।

ইত্তেফাক/এসি

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: