মির্জাপুরে ঈদ উপহার হিসেবে বাড়ি করার জমি পেলেন বীরাঙ্গনা রবিজান 

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং এ দেশীয় কিছু রাজাকার ও আল বদরদের হাতে ইজ্জত হারানো অসহায় রবিজান বেগম (৬৬) ঈদ উপহার হিসেবে বাড়ি করার জন্য সরকারি খাস জমি পেলেন। পাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধার ভাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা। ঈদ উপহার হিসেবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে রবিজান বেগমকে বাড়ি করার জন্য জমির কাগজপত্রসহ জমি বুঝিয়ে দিয়েছেন। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর সরকারি খাস জমি এবং মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিসহ ভাতা এবং সকল সুযোগ সুবিধা পাওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

আজ রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানান, রবিজানের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে। স্বামীর নাম মৃত ইয়াত আলী। ১৯৭১ সালে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকহানার বাহিনী এবং এ দেশীয় রাজাকার আল বদরদের হাতে অত্যাচার নির্যাতন এবং ইজ্জত হারিয়ে ছিলেন। রবিজান দরিদ্র এবং অসহায় হওয়ায় লোকলজ্জার ভয়ে দীর্ঘ ৪৯ বছর তা চাপা পরে ছিল। রবিজানকে নিয়ে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে দৈনিক ইত্তেফাকে পর পর দুইটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। পাশাপাশি আরও কয়েকটি জাতীয় দৈনিক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে খবর প্রকাশ হয়। খবর প্রকাশের পর উপজেলা ও জেলা প্রশাসন এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের টনক নড়ে। পরে প্রশাসন থেকে রবিজানকে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঢেকে নিয়ে থাকার জন্য একটি ঘর, কাগজপত্র সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির ব্যবস্থাসহ ভাতার কার্ড করে দেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর গত বছর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় রবিজানকে বীরাঙ্গনার খেতাব ও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে ভাতার ব্যবস্থাসহ প্রজ্ঞাপন জারি করেন। সর্বশেষ মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন রবিজানকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ৮ শতাংশ জবির ব্যবস্থা করে দেন। রবিজানের বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. এশাব্বর হোসেন এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টু এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপসক ও সাংবাদিক দুর্লভ চন্দ্র বিশ্বাসসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ঈদের আগে গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন, সার্ভেয়ার মো. ওমর ফারুক এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান মিল্টন বাঁশতৈল ইউনিয়নের নয়াপাড়া মৌজায় রবিজানকে ৮ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দিয়ে কাগজপত্র হস্তান্তর করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন, রবিজান বেগমের মত অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে পেরেছি এটাই আমাদের জন্য এবং প্রশাসনের জন্য বড় পাওয়া।

ইত্তেফাক/আরকেজি

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: