গঙ্গাচড়ায় বন্যা ও ভাঙনে বিরানভূমি চরইচলি গ্রাম

গঙ্গাচড়ায় বন্যা ও ভাঙনে বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে চরইচলি গ্রাম। মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ-দুর্গতি। জানা যায়, শংকরদহ বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার পর তিস্তার পানি আরও দুটি চ্যানেল দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একটি যাচ্ছে সিরাজুল মার্কেটের পাশ দিয়ে শেখ হাসিনা তিস্তা সংযোগ সড়ক হয়ে আর একটি যাচ্ছে এসকেএস বাজারের পাশ দিয়ে। দুটি প্রবাহের পানি আবার তিস্তায় গিয়ে মিলিত হচ্ছে। আর যেদিক দিয়ে এই পানি যাচ্ছে সেদিকে ভেঙে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, আবাদী জমি।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চরইচলি গ্রামের জয়নাল (৬৫)। আগে বাড়ি ছিল শংকরদহ গ্রামে। শংকরদহ ভাঙনের পর গত তিন মাস আগে চরইচলি গ্রামে মাটি কেটে বাড়ি করে। এতে তার খরচ হয় ১৫ হাজার টাকা। আশা ছিল হয়তো ২/৩ বছর একটু আরামে থাকবে। নদীতো অনেক দূরে। কিন্তু বিধিবাম। বাড়ি করার তিন মাসের মাথায় আবারও ভাঙতে হলো বাড়ি। কোথায় যাবে সে জায়গা নেই। রাস্তার উপর আপাতত ঘরটা রেখেছে। একই গ্রামের রেজাউল(৪৫) এক বছর আগে চরইচলি গ্রামে বাড়ি করে। খরচ হয় ৩০ হাজার টাকা। এক বছরের মাথায় তাকেও ভাঙতে হলো বাড়িঘর। তারও ঠাই এখন রাস্তায়। অতিশয় কষ্টে তাদের দিন কাটছে। কেউ কেউ আবার ২০/২৫ বছর ধরে বসত করে আসছে। তারাও আজ ভাঙনের শিকার। শুধু জয়নাল কিংবা রেজাউল নয় চরইচলি গ্রামের প্রায় ২’শ পরিবার এখন ভাঙনের শিকার। শংকরদহ বাঁধটি ভাঙ্গার পর গত এক সপ্তাহে চরইচলি গ্রামের ২শ’ পরিবারের বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। সেইসাথে একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা তিস্তায় বিলীন হয়েছে। শংকরদহ গ্রাম ভাঙনের পর এবার ভাঙন শুরু হয়েছে চরইচলি গ্রামে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের আগে শংকরদহ বাঁধটি ভেঙ যাওয়ার কারণে পাঁচ গ্রামের প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। সেই সাথে চরইচলি গ্রামের প্রায় ২শ’ পরিবারের বাড়িঘর বিলীন হয়ে যায়। এখন একটু পানি কমলেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। লোকজন বাড়িঘর সরাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, গত এক সপ্তাহে পশ্চিমইচলি এলাকায় ২শ’ পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে গেছে। লোকজন এখন অনেক কষ্টে উচু কিংবা রাস্তায় কোনরকমে দিনাতিপাত করছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, যেহেতু তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে সেহেতু সেখানে সমীক্ষা করার পর প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। জেলা প্রশাসন কর্র্তৃক আয়োজিত সভায় এমন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/এএম

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: