চট্টগ্রামে আট পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

নগরীর বায়েজিদ এলাকার এক ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে ধরে এনে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় ও ২৫ পিস ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়ার অভিযোগে বায়েজিদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সহিদুল ইসলামসহ আট পুলিশ সদস্য ও এক সোর্সের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।

গতকাল বুধবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দীন মুরাদের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন মো. আবদুল ওয়াহেদ নামের এক ব্যবসায়ী। মামলা নম্বর ২৯৩/২০। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনারকে (উত্তর) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—বায়েজিদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম, এসআই মো. নুর নবী, এএসআই অমিত ভট্টাচার্য, এএসআই মো. শরীফুল ইসলাম, এএসআই মো. আশরাফুল ইসলাম, কনস্টেবল মো. সোলাইমান ও ফৌজুল করিম এবং পুলিশের সোর্স ডোনার রুবেল। এদের মধ্যে এএসআই মো. শরীফুল ইসলাম সম্প্রতি র্যাবে বদলি হয়েছেন। মামলার এজাহারে বাদি উল্লেখ করেন, গত ১৩ জুলাই রাতে বায়েজিদ থানাধীন মুরাদনগর জামাল কলোনি এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির বিষয়ে কথা বলার সময় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে বাদিকে থানায় ধরে নিয়ে যান। এ সময় বাদীকে মারধরও করেন অভিযুক্তরা। বাদির সঙ্গে থাকা আরো তিন জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রত্যেকের মুক্তির জন্য ২ লাখ টাকা করে দাবি করেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়। আত্মীয়স্বজন থানায় দেখা করতে গেলে তাদের থেকেও ৫ হাজার টাকা দাবি করেন অভিযুক্তরা। পরে বাদি মো. আবদুল ওয়াহেদকে ২৫ পিস ইয়াবা, তার সঙ্গে থাকা মো. হোসেনকে ২০ পিস, মো. হানিফকে ১৫ পিস ও আবুল হোসেনকে ২০ পিস ইয়াবা দিয়ে মামলা করে আদালতে চালান দেওয়া হয়।

এছাড়া আদালতে চালান দেয়ার আগে বাদি মো. আবদুল ওয়াহেদের মানিব্যাগ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, মো. হোসেনের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ১ অক্টোবর মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত।

ইত্তেফাক/বিএএফ

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: