ফুলবাড়ীতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিশোরীকে ধর্ষণ, আটক ২

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে ধর্ষণ করায় থানায় ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন, উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ অনন্তপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে হুমায়ুন কবীর (২৫) এবং একই ইউনিয়নের আজোয়াটারী ধর্মপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে শামীম হোসেন সুজন (২৫)।

কিশোরীর বাবা রবিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় আটক ২ যুবকসহ একই ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে আলামিন (২৪) একই উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা গ্রামের মৃত মনছুর রহমানের ছেলে একরামুলের নামে নারী-শিশু আইনে মামলা দায়ের করেছে।

পুলিশ জানায়, উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের ওই কিশোরীর সাথে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ অনন্তপুর গ্রামের আবু-বক্কর সিদ্দিকের ছেলের হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে দুই মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। হুমায়ুন কবির কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে বিয়ের কথা বলে কৌশলে কিশোরীকে উপজেলার উত্তর বড়ভিটা গ্রামের একরামুলের বাড়ীতে নিয়ে আসে। পরে আলামিন ও শামিম হোসেন সুজনের সহযোগিতায় প্রেমিক হুমায়ুন কবির ও একরামুল কিশোরীকে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে।

আরো পড়ুনঃ প্রধান নির্বাচকের পদ হারাচ্ছেন মিসবাহ

পরের দিন শুক্রবার ওই কিশোরীর বাবা মেয়েকে কোথায় খুঁজে না পেয়ে বাদী হয়ে ফুলবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। নিখোঁজের ৩ দিন পর শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টায় ধর্ষক একরামুল হকের বাড়ী থেকে ওই কিশোরীকে অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে। রবিবার ওই কিশোরীকে ফুলবাড়ী থানায় নিয়ে আসলে অসুস্থ থাকার কারণে তাকে ফুলবাড়ী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে ভিকটিমের মুখে অপহরণ ও ধর্ষণের বর্ণনা শুনে দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণকারী দুই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ওই কিশোরীর বাবা জানান, আমার মেয়েটার জীবন তছনছ করে দিলো, মেয়েটা নবম শ্রেণীতে পড়ে। যারা আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে আমি তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজীব কুমার রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মেয়ের বাবা বাদী হয়ে আটক দুই যুবকসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অপহরণ মামলার দায়ের করেছে এবং বাকি দুই আসামীকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ইত্তেফাক/এমএএম

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: