স্বামী হত্যার বিচার দাবিতে ৩৯ দিনের সন্তান নিয়ে রাস্তায় স্ত্রী

ময়মনসিংহ, ১০ নভেম্বর- ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় তোফায়েল হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার আছিম বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে ৩৯ দিন বয়সী শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে স্বামী তোফায়েল হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ডলি আক্তার।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবেদ হোসেন, ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক, নিহতের চাচা মো. ইউনুছ আলী মাস্টার, আছিম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. গোলাম ফারুক, ১২নং আছিম পাটুলী ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক মো. মফিজ উদ্দিনসহ আরও অনেকে।

এ সময় বক্তারা তোফায়েল হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ বিষয়ে নিহতের চাচাতো ভাই মো. গোলাম ফারুক বলেন, গত ১১ অক্টোবর রাত ১০টার সময় আছিম তিতারচালা গ্রামের মৃত সোহরাব আলী মাস্টারের পুত্র তোফায়েল আহমেদকে (২৮) বাজার ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে মিটিংয়ের কথা বলে পাটুলী গ্রামের মৃত আবুল ফকিরের পুত্র এমদাদুল হক ও বিদ্যানন্দ গ্রামের শাহাবুদ্দিন মেম্বারের পুত্র সোহেল মিয়া বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়।

ওই রাত সাড়ে ১২টার দিকে জঙ্গলবাড়ি (চকপাড়া) এলাকার মো. ইউসুফ মুরগির ফার্মের পাশে তোফায়েলকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরদিন ১২ অক্টোবর নিহতের বড় বোন নাজমা বাদী হয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ হত্যা মামলা না নিয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা নেয়।

তিনি আরও বলেন, নিহতের বড় বোনের জামাই আবুল কালাম বাদী হয়ে ২৯ অক্টোবর ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফুলবাড়ীয়া ২নং আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলা আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।

পিবিআই ইন্সপেক্টর আবুল কাশেম বলেন, মামলাটি হাতে পেয়েছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান বলেন, আমরা মামলা নেইনি বিষয়টি এমন না। ওইদিন রাতে আছিম খিরু নদীতে নৌকায় কয়েকজন জুয়া খেলছিল। এমন সময় মাছবাহী আরেকটি নৌকা আসলে, তারা পুলিশ মনে করে নৌকায় থেকে যে যার মতো পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে পানি থেকে উঠে পালানোর সময় হয়তো স্ট্রোক করে বা অন্য কোনোভাবে তোফায়েল মারা যেতে পারে। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে আমরা নিজ দায়িত্বে লাশের ময়নাতদন্ত করিয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র : জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/১০ নভেম্বর

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: