দৃশ্যমান হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের অবকাঠামো

ঢাকা, ০২ মার্চ – দৃশ্যমান হয়ে উঠছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের অবকাঠামো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ১৪ মাস পরে প্রায় ১১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এ প্রকল্পের। করোনাভাইরাস ও প্রকল্প এলাকায় মাটির নিচে বোমা উদ্ধারের প্রভাব পড়লেও থেমে যায়নি কাজ। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে সক্ষম হবে বলে মনে করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বেবিচক জানিয়েছে, ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ কাজ করছে জাপানের মিটসুবিশি, ফুজিতা ও কোরিয়ার স্যামসাং—এই তিন কোম্পানির একটি কনসোর্টিয়াম। যার নাম এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম। নির্মাণ কাজে পাঁচ হাজার কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি টাকা অর্থায়ন করছে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি। তিনি অগ্রগতি দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। বর্ষার মৌসুম শুরু আগের আগেই মাটি কাটা ও ভরাটের কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। মাটি ভরাট শেষে ওপরের অংশের ঢালাইয়ের কাজ শুরু হবে। মূল টার্মিনাল ভবনের পিলার নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে।

আরও পড়ুন : মাহবুব তালুকদার রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন

নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্টরা করোনায় আক্রান্ত হলে দুশ্চিন্তা বাড়ে কাজের অগ্রগতি নিয়ে। পরবর্তীতে প্রকল্প এলাকায় নির্মাণ শ্রমিকদের আবাসনের ব্যবস্থা করে করোনা সংক্রমণ রোধ করে চলতে থাকে কার্যক্রম। তবে আবারও বাধা হয়ে সামনে আসে বোমা আতঙ্ক। নির্মাণাধীন এলাকায় মাটি খুঁড়তে গিয়ে মিলে একাধিক বোমা। ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর প্রথম বোমাটি পাওয়ার পর থেকেই সর্তকতার সঙ্গে করা হয় মাটি খোঁড়ার কাজ। আরও বোমা থাকার শঙ্কায় নির্মাণাধীন প্রকল্প এলাকায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সহায়তায় স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা হয়।

কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ওভারঅল কাজ হয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। শুধু টার্মিনালের নির্মাণ কাজ হয়েছে প্রায় ৭ শতাংশের বেশি। এ প্রকল্পটি সরকারে অগ্রাধিকারের একটি প্রকল্প। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করে আমরা সচেষ্ট। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করা হবেই। কোনওভাবেই যেন কাজ বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিনে আমরা খেয়াল রাখছি।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ হতে সময় লাগবে ৪ বছর। থার্ড টার্মিনালের ভবন হবে তিন তলা। ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই ভবনটির নকশা করেছেন স্থপতি রোহানি বাহারিন। তিনি এনওসিডি-জেভি জয়েন্ট বেঞ্চার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সিপিজি করপোরেশন (প্রাইভেট) লিমিটেডের (সিঙ্গাপুর) স্থপতি। থার্ড টার্মিনালের বহির্গমনের জন্য ১৫টি সেলফ সার্ভিস (স্ব-সেবা) চেক ইন কাউন্টারসহ মোট ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার থাকবে। ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টারসহ মোট ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন কাউন্টার থাকবে। আগমনীর ক্ষেত্রে ৫টি স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন কাউন্টারসহ মোট ৫৯টি পাসপোর্ট এবং ১৯টি চেক-ইন অ্যারাইভাল কাউন্টার থাকবে। টার্মিনালে ১৬টি আগমনী ব্যাগেজ বেল্ট স্থাপন করা হবে।

অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগেজের জন্য ৪টি পৃথক বেল্ট স্থাপন করা হবে। তৃতীয় টার্মিনালে সঙ্গে বর্তমান টার্মিনাল ভবনগুলোর সঙ্গে প্রকল্পের প্রথম ধাপে কোনও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকবে না। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য তৃতীয় টার্মিনালে সঙ্গে মাল্টিলেভেল কার পার্কিং বিল্ডিং ভবন নির্মাণ করা হবে, সেখানে ১ হাজার ৪৪টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এন এ/ ০২ মার্চ

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: