প্লাজমা থেরাপিতে মিলছে সাফল্য

দেশে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় ‘প্লাজমা থেরাপি’ বা ‘পরোক্ষ এন্টিবডি থেরাপি’র প্রয়োগে সফলতা দেখা গেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে সাফলতা মিলছে। গত ২৬ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একই হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সমিরুল ইসলাম বাবুর শরীরে প্লাজমা থেরাপি প্রযোগ করা হয়। পরে ৩১ মে ২য় দফায় করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলে ফলাফল নেগেটিভ আসে। এরই মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি আনুষ্ঠানিকভাবে প্লাজমা সংগ্রহ শুরু করেছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, সাংবাদিক, সেনা সদস্যসহ বেশ কয়েকজন করোনা থেকে সেরে ওঠে প্লাজমা দান করেছেন।

ব্লাড প্লাজমা বা পরোক্ষ এন্টিবডি থেরাপি হচ্ছে, একজন ব্যক্তির শরীরে উৎপন্ন এন্টিবডি অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করানো। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠা ব্যক্তির ব্লাড-প্লাজমা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রয়োগ করলে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন।

বাংলাদেশে এ ধারণাটি প্রথম সামনে নিয়ে আসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.রবিউল হাসান ভূঁইয়া। গত ১ এপ্রিল তার এই আইডিয়া নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনে ‘চবি শিক্ষকের আইডিয়া বাঁচাতে পারে ‘কোভিড-১৯’ আক্রান্ত রোগীর প্রাণ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর একমাসের মাথায় ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জোয়ারদার রাকিন মনজুর প্রথমবারের মতো প্লাজমা ডোনেট করেন।

এদিকে পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ শুরু করেছে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল। প্রাথমিকভাবে দুইজন সদস্যের এ চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগ করে সাফল্য মিলেছে বলে দাবি চিকিৎসকদের।

আরও পড়ুন: কীটনাশক দিয়ে সুন্দরবনে মাছ শিকার, চিংড়িসহ মাটিচাপা প্রায় ৬ মণ মাছ

করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ ব্যক্তিদের শরীর থেকে প্লাজমা নিয়ে আক্রান্তদের দেওয়া একেবারে নিরাপদ বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হোস্টন মেথোডিস্ট হসপিটালের গবেষকরা। তারা বলছেন, যারা উপসর্গহীন আক্রান্ত, তাদের জন্যও এটি কাজের।

এ বিষয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক জানান, আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখেছি প্লাজমা থেরাপি করোনার ক্ষেত্রে ৮০ ভাগ পর্যন্ত সফল৷ লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার আগে রোগীকে যদি এই প্লাজমা থেরাপি দেওয়া যায় তাহলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি৷

এসব বিষয়ে কথা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের হেমাটলোজি বিভাগের প্রধান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্লাজমা থেরাপি বিষয়ক সাব কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. এম মহিউদ্দিন আহমেদ খানের সাথে। তিনি দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, প্লাজমা থেরাপিতে কিছু ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে পাওয়া যাচ্ছেনা৷ তবে দেশি-বিদেশি গবেষণা থেকে আমরা যেটা পাচ্ছি সেটা হচ্ছে, কখন রোগীকে এই পদ্ধতির আলোকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির সাথে সাথে প্লাজমা দেওয়া যায় তাতে ভালো ফলাফল আশাকরা যায়। কিন্তু যখন রোগী ভেন্টিলেশন বা আইসিইউতে চলে যায় তখন আসলে প্রয়োগ করে তেমন একটা ভালো ফলাফল আসেনা।

তিনি আরও বলেন, আমেরিকায় প্রতি সপ্তাহে ৫ হাজার মানুষকে প্লাজমা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মানু্ষকে প্লাজমা দেওয়া হয়েছে। তারা এক্সপান্ডেড অ্যাকসেস প্রোগ্রামের মাধ্যমে এ পদ্ধতির প্রয়োগ করছে। এটা আমাদের দেশেও নিয়ম মেনে প্রয়োগ করতে পারি। এক্ষেত্রে যদি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্দিষ্ট নিয়ম বা কমিটি করে দেয় তাতে হয়ে যায়।

ইত্তেফাক/এসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: