ব্যতিক্রমী প্রশিক্ষণের যাত্রা শুরু এশিয়ান নেটওয়ার্ক অব ইয়ুথ ভলান্টিয়ার্সের

মহামারীর কারণে সারা পৃথিবীতে পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের কারণে আমরা ঘৃহবন্দি হয়ে গিয়েছি। সারা পৃথিবী আজ লকডাউনে স্বেচ্ছা কারাগারে পরিণত। সবাইকে আজ থাকতে হচ্ছে হোম কোয়ারাইন্টাইনে। যার ফলে মানসিক বিকাশ ধ্বংস হচ্ছে; মানুষ অসুস্থ হয়ে পরছে; মানুষ ভুগছে ভবিষ্যৎ এর অনিশ্চয়তায়। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সম্মুখীন হচ্ছে মানসিক ও শারীরিক ক্ষতিরও। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুব সমাজ।

যাদের আজকে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার কথা ছিলো তারা আজ ঘরে বসে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি তো চলতে পারে না অনন্তকাল; এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই আমাদেরকে চলতে হবে; বাঁচতে হবে। এর উত্তরণ হোক বা না হোক আমাদের কোভিড-১৯ এর সাথে খাপ খাইয়েই চলতে হবে।সে ক্ষেত্রে অনলাইন এডুকেশন অনেক দেশে চালু হলেও এখনো তৃতীয় বিশ্ব সহ অনেক দেশেই এই অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে সমর্থ হচ্ছে না।

এখানে মেজর প্রবলেম হচ্ছে কানেকটিভিটি, এর পরেই বলা যায় ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ, তৃতীয় সমস্যা হচ্ছে ডিভাইস এবং একই সময়ে বিভিন্ন কারণে সরাসরি অনলাইনে ক্লাস করা সম্ভব হয় না। এ সকল বিষয় পরিত্রাণের জন্য এশিয়ান নেটওয়ার্ক অব ইয়ুথ ভলান্টিয়ার্স সোসাইটি শুরু করেছে ফেক্সিবল অনলাইন প্রশিক্ষণ প্রদান যার ফলে যেকোনো ছাত্রছাত্রী যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো সময়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবে।

‘লার্ন টু লিড উইথ এএনওয়াইভি’ এই ব্রত কে সামনে রেখে এশিয়ান নেটওয়ার্ক অব ইয়ুথ ভলান্টিয়ার্স সোসাইটি কর্তৃক গৃহীত অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলো অরিয়েন্টেশন এবং উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। করোনা মহামারির বর্তমান প্রেক্ষাপটে পৃথিবীর সব দেশের মানুষ ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছে দীর্ঘদিন যাবত। এশিয়ান নেটওয়ার্ক অব ইয়ুথ ভলান্টিয়ার্স সোসাইটি সেসব ঘরবন্দি তরুণদের জন্য বিনামূল্যে ১১ টি অপ্রাতিষ্ঠানিক কোর্সের ব্যবস্থা করে। সেখানে বিশ্বের ১৭ টি দেশ থেকে সর্বমোট ৩৫০২ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে। উক্ত কার্যক্রমের ক্লাস ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধামত সময়ে ক্লাস করতে পারছে।

উক্ত কার্যক্রমের অরিয়েন্টেশন এবং উদ্বোধন অনুষ্ঠান গত ৮ই জুন বাংলাদেশ সময় রাত ৭.৩০ মিনিটে ফেসবুকে তাদের নিজস্ব পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয় যা ৫৫০০ এর বেশি মানুষ দেখে।

উক্ত অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এশিয়ান নেটওয়ার্ক অব ইয়ুথ ভলান্টিয়ার্স সোসাইটি এর প্রেসিডেন্ট প্রফেসর মো. রশীদুল হাসান। উক্ত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রফেসর ড. মোনাজ আহমেদ নূর, উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, প্রফেসর ড. আব্দুর রশিদ বি. মোহাম্মদ শরিফ, ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া, আরো উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. এম. কামরুজ্জামান, ডীন, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রফেসর ড. শ্যারাফিন আরভিওলা, ফিলিপাইন্স নরমাল ইউনিভার্সিটি, প্রমোদ শাহ, নেপাল, প্রফেসর ড. মামুন-অর-রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেখ ফরিদুল ইসলাম কানন, সাধারণ সম্পাদক, এ এন ওয়াই ভি। সকল বিষয়ের শিক্ষক এবং কো-অর্ডিনেটর রা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রফেসর ড. মোনাজ আহমেদ নূর তার বিশ্ববিদ্যালয়ে কিভাবে এই মহামারির শুরু থেকে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সেক্ষেত্রে কি কি বাধার সম্মুখীন হয়েছেন সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন এই সময়ে আমাদের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা লিডারশীপের মত কোর্স গুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ উপযোগী কেননা এগুলো আমাদের শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত নয়। শিক্ষার্থীরা এ থেকে বেশ উপকৃত হবে। তিনি এই কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এটা একটা সময়োপযোগী উদ্যোগ।

প্রফেসর ড. আব্দুর রশিদ বি. মোহাম্মদ শরিফ তাদের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং সেক্ষেত্রে তিনি প্রচলিত শিক্ষা ক্ষেত্র এবং অনলাইন শিক্ষা এ দুই বিষয়ের মধ্যে সমস্যা এবং সমাধানের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

প্রফেসর ড. এম. কামরুজ্জামান সমসাময়িক পরিস্থিতি অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি বর্তমান এবং ভবিষ্যতে কি করণীয় সে সম্পর্কে গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. মামুন-অর-রশিদ। তিনি সমসাময়িক সময়ে এর গুরুত্ব সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করেন।

গ্লোবাল সিটিজেন নিয়ে আলোচনা করেন প্রফেসর ড. শারেফিন আরভিওলা। তিনি এ সময় সংগঠনের শুরুর কথা স্মরণ করেন এবং সংগঠনের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন “গ্লোবাল সিটিজেনশিপের অন্যতম উদাহরণ আজকের আমাদের এই অনুষ্ঠান। কোর্স ইনস্ট্রাক্টরগণ তাদের নিজস্ব কোর্স সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করেন। আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্ব থেকে অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দেন বক্তারা এবং সেখানে অনেক নতুন বিষয় উঠে আসে আলোচনায়।

প্রচুর শিক্ষার্থীর আগ্রহের কারণে এশিয়ান নেটওয়ার্ক অব ইয়ুথ ভলান্টিয়ার্স সোসাইটি এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় ব্যাচে শিক্ষার্থী নেবার কথা বিবেচনা করছে। সেখানে নতুন আরো বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া সংগঠন থেকে ফটোগ্রাফি কন্টেস্ট এবং এরকম আরো নানামুখী কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর মোঃ রশীদুল হাসান অবহিত করেছেন।

ইত্তেফাক/আরএ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: