গৌরীপুরে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের টাকা আত্মসাৎ ও সার্ভিস বুক কাণ্ড

শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় অন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টাকা নিজ বিদ্যালয়ের নামে তুলে আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষিকার নাম দিলরুবা ইয়াসমিন। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের ৪৫ নং পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। উপজেলা শিক্ষা অফিস ওই টাকার জন্য তাকে বার বার তাগাদা দিলেও টাকা ফেরত দেননি দিলরুবা। এছাড়াও ওই শিক্ষকের সার্ভিস বুক হারানোর নেপথ্য অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে শুভংকরের ফাঁকির এক রহস্য। তবে দুটি অভিযোগই অস্বীকার করেছেন দিলরুবা ইয়াসমিন।

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের গোপন তদন্ত ও পত্রাদেশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের ৪৫ নং পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলরুবা ইয়াসমিন ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রামগোপালপুর ইউনিয়নের ১৩৯ নং পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুটিন মেইনটেন্স খাতের ৪০ হাজার টাকা ভুলক্রমে ৪৫ নং পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাউন্টে চলে যায়। বিধিবহির্ভূতভাবে প্রধান শিক্ষক এ টাকা তোলেন। এরপর বদলি হন ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি বদলি হন ঢাকা মিরপুরের তাফালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

ভুল করে চলে যাওয়া টাকা ফেরতের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার একাধিকবার মৌখিক তাগিদা দেন। এতেও টাকা ফেরত না দেওয়ায় তিন কর্মদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য গত ৫ আগস্ট পত্রাদেশ জারি করেন। এই পত্রাদেশেও টাকা ফেরত দেয়নি ওই প্রধান শিক্ষক।

এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, আমার বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত রুটিন মেইনটেন্স খাতের ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে যথাসময়ে কাজও সম্পন্ন করেছি। অন্য বিদ্যালয়ের কোনো টাকা এ একাউন্টে আসেও নাই, উত্তোলনও করি নাই।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন বলেন, মৌখিক তাগিদা দেওয়া হলেও টাকা ফেরত দেননি দিলরুবা ইয়াসমিন। পরে টাকা ফেরতের জন্য পত্র দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সুন্দরগঞ্জে খেলার মাঠ থেকে রোপণ করা গাছ সরিয়ে নিলো মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ

অপরদিকে ওই শিক্ষকের ‘সার্ভিস বুক হারানো’ গল্পে বেড়িয়ে এসেছে শুভংকরের ফাঁকির এক গোপন রহস্য। ২০১৩ সালের ২০ জুন তিনি প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন। ২০১৭ সালের ৯ জুলাই গৌরীপুর থানায় সার্ভিস বুক হারানো সংক্রান্ত জিডি করেন। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের আদেশে তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান ওই বছরের ৩০ জুন নতুন সার্ভিস বুক খুলে দেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই সার্ভিস বুকে প্রধান শিক্ষক দিলরুবা ইয়াসমিন ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪২ দিনের চিকিৎসা ছুটি, ২০১৫ সালের ১-১০জানুয়ারি পর্যন্ত বিনাবেতন ছুটি, একই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মে পর্যন্ত ৭২দিন ছুটি, ১১ আগস্ট থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪০ দিনের ছুটি ভোগ করেন। নতুন খোলা সার্ভিস বুকে এসকল ছুটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বিশাল এ ছুটির বহর। শুধু এক বছরে সরকারি ও অফিসিয়াল ছুটি ব্যাতিত ১২২ দিন ছুটি ভোগ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, আমার সার্ভিস বুক অফিস থেকে হারিয়েছে। আমি ডিজি করেছি। অফিসের লোকজন সার্ভিস বুক লিখেছে। সুতরাং এ দায়ও শিক্ষা অফিসের।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে প্রায় তিনশ জন শিক্ষকের সার্ভিস বুক ছিলো না। অধিকাংশ শিক্ষকদের ফাঁকি গায়েব করতেই নিখোঁজ হয়ে যায় এ সার্ভিস বুক। এমন শিক্ষকদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষকরাও ভোগান্তির শিকার হন এ দপ্তরে।

ইত্তেফাক/এসি

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: