ইবির নয়া ভিসি কে হচ্ছেন? নানা জল্পনা-কল্পনা  

কে হচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া ভিসি, এনিয়ে যেন জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। টানা চার বছর দায়িত্ব পালনের পর গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী সম্পন্ন করেন পূর্ণ মেয়াদ। সফলভাবে পূর্ণ মেয়াদে ভিসির দায়িত্ব শেষ করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে তিনি এক নজির স্থাপন করলেন। কারণ, ইতিপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ভিসিই পূর্ণমেয়াদে দায়িত্ব সম্পন্ন করতে পারেনি। এদিকে কে হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া ভিসি, নাকি অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারীই দ্বিতীয় মেয়াদে পাচ্ছেন ভিসির দায়িত্ব তা নিয়ে শোনা যাচ্ছে নানা গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইবির ১২তম ভিসি হিসাবে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারী দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব লাভের পর তিনি ক্যাম্পাসের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দিয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সেশনজট দুরীকরণ, ২৫টি বিভাগ হতে ৩৪টিতে উন্নীতকরণ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, এমফিল পিএইচডি নীতিমালা আপগ্রেডেশন, রেজাল্ট প্রসেসিং সফটওয়ার সংযুক্ত, কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরি ও ইনোভেশন ল্যাবরেটোরি তিনি স্থাপন করেন। পাশাপাশি অসাম্প্রাদিয়ক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উদ্ভুদ্ধকরণে বিগত চার বছরে স্থাপন করা হয় বঙ্গবন্ধু চেয়ার, প্রধান ফটকে দৃষ্টিনন্দন “মৃতঞ্জয়ী মুজিব”, মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, বঙ্গবন্ধু ও একুশে কর্নার, বঙ্গবন্ধু আবাসিক হলে শ্বাশত ‘মুজিব ম্যুরাল’। ভিসি অধ্যাপক আসকারীর মেয়াদ সম্পন্নের পর এখন নতুন ভিসি কে হচ্ছেন নাকি তিনিই দ্বিতীয় মেয়াদে পাচ্ছেন ভিসির দায়িত্ব এনিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জন।

নতুন ভিসির সম্ভাব্য তালিকায় ইবির সদ্য বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারীসহ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য দু-একজনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের নাম শোনা যাচ্ছে। নতুন ভিসি পদায়নের অপেক্ষায় এখন অধীর আগ্রহভরে রয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। এদিকে ভিসি অধ্যাপক হারুন-উর রশিদ আসকারী মেয়াদ পূর্তির শেষদিন ২০ আগস্ট ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দেন। তাতে তিনি লিখেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে (২০ আগস্ট) আজ আমার শেষ দিন। সুষ্ঠুভাবে চার বছর দায়িত্বপালন করতে পেরে সর্বপ্রথম কৃতজ্ঞতা জানাই পরম করুনাময় আল্লাহর প্রতি। অশ্রুঝরা আগস্টের এই দিনে বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কৃতজ্ঞতা জানাই রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার প্রতি, যাঁরা আমাকে এই দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত মনে করে আস্থায় নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বিগত ৪০ বছরে ১২জন ভিসির দায়িত্ব লাভ করেন। কিন্তু এদের মধ্যে ভিসি অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারী ছাড়া অন্যদের কেউই নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর একাংশ মেয়াদের শেষদিকে ভিসি অধ্যাপক আসকারীর বিরুদ্ধে অনিয়ন-দুর্নীতির ঢালাও অভিযোগ এনে নানা কর্মসূচী পালন করলেও শেষ পর্যন্ত তা ধোপে টেকেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এসএম আব্দুল লতিফ জানান, নয়া ভিসি নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি কোন বার্তা এখনো আসেনি। ভিসি নিয়োগের বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত বলে তিনি জানান।

বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-উর রশিদ আসকারী ইত্তেফাককে জানান, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনে ছিলাম সচেষ্ট। অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় শৃংখলা, শিক্ষা ও গবেষণায় বহুদুর এগিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইত্তেফাক/আরকেজি

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: