পর্যটন খাতকে বাঁচাতে সহজ শর্তে ঋণ দাবি পর্যটন জোটের

অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সম্মিলিত পর্যটন জোটের অনলাইন বৈঠক। মঙ্গলবার ‘পর্যটন সহায়ক ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রবর্তন’ শীর্ষক এই অনলাইন বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু ফারাহ মো. নাসের এবং অর্থনীতিবিদ শাহরিয়ার পারভেজ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সম্মিলিত পর্যটন জোটের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোখলেছুর রহমান।

বৈঠকে আবু ফারাহ মোহাম্মদ নাসের বলেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ২ নভেম্বর ট্যুরিজম সেক্টরকে এসএমই এবং পুনঃঅর্থায়নযোগ্য খাত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য এক পরিপত্রের মাধ্যমে একে সেবা ও অগ্রাধিকার খাত হিসেবে নির্ধারণ করে। এই পরিপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ২৪টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এসএমই খাতের মধ্যে পর্যটন ৫ম স্থানে রয়েছে। তবে পর্যটনের সকল উপখাতগুলি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত না করার জন্য ঋণ পেতে অসুবিধা হচ্ছে।

তাই তিনি সম্মিলিত পর্যটন জোটকে এর একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে উপস্থাপন করার জন্য অনুরোধ করে বলেন, এটি হলে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি পরিপূর্ণ গাইডলাইন প্রস্তুত করে ব্যাংকগুলিকে নির্দেশ দিবে। আগামী দিনে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করে পর্যটনসহ সকল এসএমই খাতকে সহযোগিতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সদিচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন।

এ সময় জাবেদ আহমেদ পর্যটন খাতের বিস্তারের সম্ভাবনাকে তুলে ধরে সহজ শর্তে, কম সুদে এবং জামানত ছাড়া পর্যটনের ছোট ছোট উদ্যোক্তাদেরকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করার জন্য অনুরোধ জানান।

টোয়ারের পরিচালক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশনস) সাহেদ উল্লাহ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এই সেক্টরে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ না দিলে দেশের ৬০ শতাংশ ট্যুর অপারেটরকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হবে।

অর্থনীতিবিদ শাহরিয়ার পারভেজ নানা কারণে বাংলাদেশের পর্যটন ৫৩ শতাংশ বাজার হারানোর তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, এই সেক্টরে সহজ শর্তে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো একান্ত প্রয়োজনীয়। তিনি দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে ‘ট্যুরিজম বন্ড’ ছাড়ার পরামর্শ দেন। ট্যুরিজম ব্যাংকিং মূলধন ঘাটতি কমাবে, ব্যালেন্স অব পেমেন্ট এবং ব্যালেন্স অব ট্রেডে বড় ভূমিকা রাখরে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়াও বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের সমন্বয়কারী এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব এ এইচ এম শফিকুজ্জামান, আটাবের মহাসচিব মাজহারুল হক ভূঁইয়া এবং সম্মিলিত পর্যটন জোটের প্রথম যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম সাগর। সবশেষে উপস্থিত সকলের প্রতি জোটের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন জোট নেতা জয়িতা শেখ।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: