রাজস্ব বিরোধের আপিলে ব্যবসায়ীদের ব্যয় দ্বিগুণ হচ্ছে

রাজস্ব সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে আপিল করার খরচ দ্বিগুণ হচ্ছে। বাজেটে এ বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বর্তমানে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব মামলাজটে আটকা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মামলার এই প্রবণতা ঠেকাতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে এনবিআর সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে ব্যবসায়ের খরচ বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত করবে। এই সিদ্ধান্ত সরকারের ব্যবসা সহজ করার সূচকে অগ্রগতির চেষ্টাকেও ব্যাহত করতে পারে।

বর্তমানে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভ্যাট কিংবা শুল্ক বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে ১০ শতাংশ রাজস্ব অগ্রিম পরিশোধ করে কমিশনারের কাছে আপিল করতে হয়। কমিশনারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলাত ট্রাইব্যুনালে ১০ শতাংশ এবং ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যেতে হলে আরো ১০ শতাংশ রাজস্ব পরিশোধ করতে হয়। নতুন প্রস্তাবে ট্রাইব্যুনালে যেতে ২০ শতাংশ এবং ট্রাইব্যুনাল থেকে উচ্চ আদালতে যেতেও ২০ শতাংশ ভ্যাট বা শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে আপিলের ক্ষেত্রে যে হার রয়েছে, তা অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় করদাতা এবং একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এর সুযোগ নিচ্ছেন। ফলে তারা যে কোনো আইনানুগ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও আপিল করেন। আপিল করলে এসব মামলা শেষ হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। ফলে সরকারের ঐ রাজস্ব আটকে রাখা যায়। কিছু ব্যবসায়ী রয়েছেন, তারা সবসময়ই এই কাজটি করে থাকেন।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে এনবিআরের আপিলাত ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট মিলিয়ে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত মামলায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আটকে রয়েছে। ক্রমেই এটি বাড়ছে। বিশাল পরিমাণ এ অর্থ আটকে থাকায় অস্বস্তিতে রয়েছে এনবিআর। অবশ্য সরকারের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন ব্যবসায়ীরা। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে একজন ব্যবসায়ী নেতা জানান, মামলা বছরের পর বছর আটকে থাকার দায় তো ব্যবসায়ীদের নয়। কিন্তু যে কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার অধিকার রয়েছে। মামলা কিংবা রাজস্ব ঝুলে থাকার দোহাই দিয়ে এত বিশাল অঙ্কের ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নয়।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি শামস মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমানে এমনিতেই ব্যবসায়ের খরচ বেশি। নতুন এ প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রায় ২০ শতাংশ বাড়তি কর পরিশোধ করতে হবে। এতে বিশাল পরিমাণ অর্থ আটকে থাকায় চলতি মূলধনে আরো সমস্যা হবে। এই কারণে বিদেশি বিনিয়োগ আসতে চাইবে না। কারণ, বিনিয়োগকারীরা যখন শুনবেন আপিল করতে গেলে প্রায় অর্ধেক টাকা আটকে থাকে, তখন তারা তো আসতে চাইবেন না। এটি সার্বিক ব্যবসায়ের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেও মনে করেন তিনি।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: