ন্যূনতম করের আওতায় আসছেন বহু ব্যবসায়ী

বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা কমানো এবং নিম্ন ও উচ্চস্তরে হার কমানো হলেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আদায়ের ওপর ন্যূনতম কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। বছরে তিন কোটি টাকার বেশি আদায় হলে যে কোনো ব্যক্তিকে এখন থেকে ০.৫০ শতাংশ ন্যূনতম কর দিতে হবে। মূলত কর ফাঁকিবাজ ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে বাজেটে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি পাশ হলে প্রতি এক কোটি টাকা বিক্রয়ের ওপর বাধ্যতামূলক ৫০ হাজার টাকা কর দিতেই হবে।

যেসব মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপরে নয়, সঠিকভাবে হিসাব রাখে না কিংবা কর ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে রাজস্ব বিভাগের কাছে আয়ের সঠিক হিসাব জমা দেয় না কিংবা মাত্রাতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে কর ফাঁকি দেয়, তাদের উদ্দেশ্য করে বাজেটে এ প্রস্তাব আনা হয়েছে। এ প্রস্তাবের ফলে কোনো ব্যক্তির প্রকৃত আয় হোক বা না হোক, বছরে তিন কোটি টাকার ওপরে আদায় হলেই ০.৫০ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হবে। বর্তমানে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোকে মোট আদায়ের (মুনাফা হোক বা না হোক) ওপর দুই শতাংশ হিসেবে ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হয়। একইভাবে অন্যান্য কোম্পানিকে ০.৬০ শতাংশ এবং বিড়ি সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের উত্পাদনকারীদের মোট আদায়ে ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর দিতে হয়। এই প্রথমবারের মতো সাধারণ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারাও এর অন্তর্ভুক্ত হলেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, কোম্পানি কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব রাখার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে। তারা ঐ কাঠামো মেনে চলে। কিন্তু এর বাইরে বিপুল সংখ্যক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের এসব নিয়ম মানার বালাই নেই। কোটি কোটি টাকা বার্ষিক বিক্রয়, কিন্তু বছর শেষে আয় দেখাবে তিন লাখ টাকা। এ ধরনের বহু ব্যবসায়ী রয়েছেন, তারা সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে না থাকায় তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত আয়কর আদায় করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এমন অনেক ব্যবসায়ী রয়েছেন, যাদের বার্ষিক আদায় কয়েক কোটি কিংবা কয়েকশ কোটি টাকাও হবে। কিন্তু তারা এসব আদায় যথাযথভাবে হিসাবভুক্ত করেন না কিংবা ব্যয় বাড়তি দেখিয়ে আয় কম দেখান। এ ধরনের ব্যবসায়ীদের ‘টার্গেট’ করেই এবার ন্যূনতম করের এই বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

অবশ্য এ ধরনের বিধান বাস্তবায়ন হলে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন কমে লেনদেনের ভিন্ন ওপায় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেননা এ ধরনের আদায় খুঁজতে ভবিষ্যতে ব্যাংক লেনদেনের বিষয়টি বড়ো প্রমাণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যক্তিরা ব্যাংক ব্যবস্থায় লেনদেন কমিয়ে দিতে পারে। কিংবা নামে বেনামে লেনদেন বাড়তে পারে। এমন আশঙ্কার কথা স্বীকার করেছেন এনবিআরের ঐ কর্মকর্তাও। তিনি বলেন, ফাঁকি দেওয়ার জন্য প্রথমেই হয়তো এই রাস্তাটি খুঁজবেন। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন নামে বেনামেও লেনদেন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকার, সরবরাহকারী কিংবা ডিলার—এ ধরনের কিছু ব্যবসায়ে মুনাফার পরিমাণ খুবই কম। আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানোর পর তাদের প্রকৃত আয় সামান্য। এ ধরনের ব্যবসায়ীর ওপর ন্যূনতম কর আরোপ যৌক্তিক নয়। বরং এর প্রভাবে পণ্যমূল্য বাড়তে পারে।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: