ঝুঁকি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি অগ্রণী ব্যাংকের

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকলেও তা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করার অভিযোগ উঠেছে। একটি ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার নিয়ে সিদ্ধান্তে না আসায় দায়িত্বে অবহেলা হচ্ছে বলে মনে করছে খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রগুলো। সূত্র মতে, বিষয়টি সুরাহার বদলে এক ধরনের সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। সফটওয়্যার আপগ্রেড করতে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে গড়িমসির কারণে কারিগরি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়ে গেছে অগ্রণী ব্যাংক। কারণ, একটি ব্যাংকের জন্য কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের মাধ্যমেই ব্যাংকিংয়ের মূল কাজগুলো করা হয়। রিয়েল টাইম ব্যাংকিংয়ের সুবিধা পেয়ে থাকেন গ্রাহকরা। কিন্তু এটি আপগ্রেড করার নামে জালিয়াতি হওয়ায় বিষয়টি ঝুলে আছে, এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।

এদিকে, সফটওয়্যার জালিয়াতির ঘটনায় দায়ী কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করলেও ঐ কোম্পানি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করাসহ সফটওয়্যার আপডেট না করায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানি টেমিনসের স্থানীয় প্রতিনিধি ফ্লোরা টেলিকমকে কারণ দর্শাও নোটিশ এবং পরবর্তীতে ফ্লোরার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে অগ্রণী ব্যাংক। একই ঘটনায় টেমিনসও ফ্লোরার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করে। বিষয়টি অগ্রণী ব্যাংককে জানিয়ে দেওয়া হয়।

সূত্র মতে, গত ৩০ জুন অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে টেমিনসের স্থানীয় প্রতিনিধি ফ্লোরা টেলিকমের সঙ্গে টেমিনসের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ায় এতদসংক্রান্ত অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গেও ফ্লোরা টেলিকমের সম্পাদিত সব চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। মেইনটেন্যান্স কোড এবং লাইসেন্সের মেয়াদ আরো এক মাস বৃদ্ধি এবং ঐ সময়ে মেইনটেন্যান্স সার্ভিস তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিত্বকারী অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অব্যাহত রাখতে টেমিনসকে চিঠি দিতে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। একই সঙ্গে টেমিনসের স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা সুবিধা অব্যাহত রাখতেও টেমিনসকে অনুরোধ জানান হয়। কিন্তু বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ—এমন অভিযোগ করেছে ব্যাংকেরই একাধিক সূত্র।

সূত্র মতে, কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার যোগসাজশে কারিগরি ঝুঁকিতে ফেলে দিয়ে ব্যাংকের প্রায় শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপকৌশলই ছিল এই লুকোচুরির মূল উদ্দেশ্য। ফলে অর্থনৈতিক ঝুঁকিসহ বিবিধ সেবা ঝুঁকিতে পড়ে অগ্রণী ব্যাংক। তাদের মতে, দোষী কোম্পানি ভবিষ্যতে যাতে স্পর্শকাতর ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে ব্যবসা করতে না পারে সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: