রাশিয়া থেকে দেশের পথে পরমাণু যন্ত্রপাতি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় পরমাণু যন্ত্রপাতি রাশিয়া থেকে দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই ইউনিটের কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের প্রধান ও বড় যন্ত্রগুলো আগামী অক্টোবর কিংবা নভেম্বর থেকে দেশে আসা শুরু করবে।

ইতিমধ্যে রাশিয়ার বিভিন্ন যন্ত্র উত্পাদনকারী কারখানায় চারটি স্টিম জেনারেটরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি স্টিম জেনারেটর ও ভিভিইআর-১২০০ চুল্লিপাত্র (রি-অ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল) নিয়ে একটি জাহাজ গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নির্মাণে নিয়োজিত রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আর্থিক বিবেচনায় দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প। ২০১৩ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদিত হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় সোয়া ১ লাখ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটে বিদ্যুত্ উত্পাদন চালু হবে। একই সক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটে উত্পাদন শুরু হবে ২০২৪ সালে। কেন্দ্রটির সব পরমাণু যন্ত্রপাতি রাশিয়া তৈরি ও সরবরাহ করবে। ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের সিংহভাগ ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ঋণও দেবে দেশটি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশে ইতিমধ্যে প্রকল্পটির অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ অনেকটাই এগিয়েছে। এখন পরমাণু যন্ত্রপাতিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বসানোর কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এ যন্ত্রগুলো রাশিয়া সরবরাহ করবে। দেশটির বিভিন্ন কারখানায় ৩০টি দীর্ঘমেয়াদি যন্ত্র তৈরি হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে যন্ত্রপাতির গুণাগুণ ও কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং পরিচালনগত বিষয় বোঝার জন্য বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছে।

আট সদস্যের ঐ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার এনার্জি ডিভিশনের পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী মাহমুদ হোসাইন, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সৈয়দ মাসুদ রানা, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক ও মো. আহসানুল হাবীব, প্রকৌশলী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আশরাফ ও প্রকৌশলী মো. শামসুল আলম, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মাদ সাজ্জাদ দেওয়ান এবং উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী। তারা রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ, মস্কো, ভলগাদনাস্ক ও পেট্রোজাবদ এলাকার বিভিন্ন উত্পাদন কোম্পানিতে যন্ত্রপাতি নির্মাণকাজের দেখভাল করছেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মাদ শৌকত আকবর জানান, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের জন্য প্রস্তুতকৃত রি-অ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল এবং একটি স্টিম জেনারেটরের হাইড্রোলিক টেস্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি প্রকল্পটি বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। প্রথম ইউনিটের চারটি স্টিম জেনারেটরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে দ্বিতীয় ইউনিটটির স্টিম জেনারেটর তৈরির কাজ। আগামী অক্টোবরের মধ্যে এসব যন্ত্র দেশে আসা শুরু করবে।

যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী রাশিয়ার কোম্পানি জেএসসি অটোমেনারগোম্যাশের মহাপরিচালক আন্দ্রেই নিকিপেলোভ বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমরা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের সরঞ্জাম পাঠাতে পেরেছি। এগুলো ১৪ হাজার কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে এ বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র পৌঁছাবে। তিনি জানান, পাঠানো চুল্লিপাত্রটির ওজন ৩৩৩ দশমিক ৬ টন। স্টিম জেনারেটরের ওজন ৩৪০ টন। রাশিয়ার বিভিন্ন জেটি ও পথ পার হয়ে এগুলো কৃষ্ণসাগর ও সুয়েজখাল হয়ে বাংলাদেশে আসবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: