‘এন্ড্রু কিশোরের ইচ্ছা মোতাবেকই তাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে’

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের মরদেহ আগামী ১৫ জুলাই রাজশাহীতে মায়ের সমাধির পাশে সমাহিত করা হবে। মৃত্যুর আগে এন্ড্রু কিশোর নিজেই বলে গেছেন তাকে যেন মায়ের পাশেই সমাহিত করা হয়। সেই ইচ্ছায়ই মায়ের পাশেই তাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এন্ড্রু কিশোরের বড় বোনের স্বামী ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস মঙ্গলবার (৭জুলাই) দুপুরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘শিল্পীর ছেলে-মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় লেখাপড়া করেন। তারা দেশে ফেরার জন্য তারা বিমানের টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে তারা দেশে ফিরবেন। এ কারণে তার মরদেহ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে আসার পর খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতাল সংলগ্ন কবর স্থানে এন্ড্রু কিশোরকে সমাহিত করা হবে। এরআগে ওইদিন তার মরদেহ উন্মুক্ত করে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাখা হবে।’

উল্লেখ্য, এন্ড্রু কিশোরের মরদেহ সোমবার রাতেই রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ সংগ্রাম করে সোমবার (৬জুলাই) সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় বড় বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাসায় মারা যান জনপ্রিয় এ শিল্পী। এন্ড্রু কিশোরের ছেলে জে এন্ড্রু সপ্তক (২৪) এবং মেয়ে মিনিট এন্ড্রু সংজ্ঞা (২৬) অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছেন। সজ্ঞার পড়াশোনা প্রায় শেষের দিকে। তার স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু একজন চিকিৎসক। তিনি রাজশাহীতেই বসবাস করেন।

এদিকে এন্ড্রু কিশোর না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার খবরে রাজশাহীজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশের প্লেব্যাক সম্রাট কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর প্রায় ১০ মাস ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি আটবার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী।

এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে তার নিজ শহর রাজশাহী থমকে গেছে। করোনা পরিস্থিতিতেও তার মরদেহ শেষবারের মত একনজর দেখতে মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় ভক্তদের ভিড় জমে যায়। সেখানেই তার বোন ডা. শিখা বিশ্বাস ও ভগ্নীপতি ডা. প্যাট্রিক বিপুলের বাসা-ক্লিনিক। রাত সাড়ে ৯টায় তার মরদেহ মহিষবাথান থেকে মহানগরীর লক্ষ্ণীপুর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের হিমঘরে নেওয়া হয়। তখনও লাশবাহী গাড়ির পেছনে ছিল ভক্ত ও আত্মীয়-স্বজনের মাতম।

রাজশাহীর এই কৃতিসন্তানের মৃত্যুতে নগরীর মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশাসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

শোক বার্তায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘রাজশাহীর উজ্জ্বল নক্ষত্র ও গর্ব প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। তার মৃত্যুতে দেশের মানুষ একজন কিংবদন্তি, বরেণ্য ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীকে হারালো। তার মৃত্যুতে দেশের সংগীত জগতের যে ক্ষতি হলো, তা অপূরণীয়। প্লেব্যাক সম্রাটখ্যাত দেশবরেণ্য শিল্পী এন্ড্রু কিশোর তার গানের মাধ্যমে মানুষের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

তার মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হলো বলে উল্লেখ করেছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘এন্ড্রু কিশোর রাজশাহীর একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সম্পদ। তার চলে যাওয়া সংগীতাঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত করল। তার শূন্যতা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।’

ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এই রাজনীতিক বলেন, ‘আমার ও তার বাড়ি পাশাপাশি ছিল। তিনি যখন রেওয়াজ করতেন, তন্ময় হয়ে তা শুনতাম। এখন থেকে সে রাজশাহীতেও আসবে না। তার রেওয়াজও শুনতে পাবো না।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট রাজশাহীর সভাপতি ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষ, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামারউল্লাহ সরকার, রাজশাহী থিয়েটারের সভাপতি নিতাই কুমার সরকার, মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগার রাজশাহী আবদুল লতিফ চঞ্চল, ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি ডা. এফএমএ জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হোসেন মাসুদসহ অনেকেই শোক জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এএএম

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: