‌‌‘এন্ড্রু কিশোরের গান আমার বহু ছবিকে সুপার হিট করেছে’

‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’ ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’ ‘বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে’ ‘আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে’ জনপ্রিয় এ গানগুলো কানে ভেসে আসতেই একটা নাম মনে পড়ে যায়-এন্ড্রু কিশোর পাশাপাশি চোখের সামনে যার ছবি ভেসে ওঠে তার নাম ইলিয়াস কাঞ্চন। সেই সাদাকালো সত্তরের দশক থেকে বিনোদন প্রেমী মানুষের হৃদয় দখল করে আছেন এদুজন।

অডিওর চেয়ে সিনেমার রুপালি পর্দাতেই এন্ড্রু কিশোর ছিলেন বেশি সরব। দর্শকরা সিনেমায় শিল্পীর গান শুনলেও পর্দায় যে অভিনেতা ঠোট মেলাতেন তাকেই মনে রাখতেন। সেই সাদা-কালোর যুগের দর্শরা তখন যেন এই গানগুলোর সাথে মনে প্রাণে এটাই বিশ্বাস করতে থাকেন হয়তো নায়ক নিজেই কন্ঠ দিয়ে গান গুলো গাইছেন। তাই গান কানে আসলেই দর্শকদের চোখের সামনে যেন ভেসে উঠতো ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবি। সিনেমার গানের সাথে এন্ড্রু কিশোর এবং ইলিয়াস কাঞ্চন যেন এক হয়ে দর্শক মনে মিশে ছিলেন। গানের মতোই বাস্তব জীবনে এই দুজন কিংবদন্তির সম্পর্কও ছিলো মুধুর।

আজ কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর আর নেই। অসংখ্য ভক্তদের কাঁদিয়ে আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় তার বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই গুনী শিল্পীর মৃত্যুর সংবাদে গভীর শোক প্রকাশ এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’ ভেজা চোখ সিনেমায় এ গান এক সময়ে মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে। গানের মরমী বার্তা মানুষকে ভাবিয়েছে, কাঁদিয়েছে। গানের গায়ক এ্যান্ড্রূ কিশোরও আজ সে কান্নার কারণ হয়েছেন। আজ তিনি আমাদের সবাইকে ছেড়ে সত্যি সত্যি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তাঁর জীবনের গল্পর পাতা আজ এখানে শেষ হয়ে গেলো। আর আমরা কোন দিন তার মুখে কোন গল্প কোন গান শুনতে পারবনা।

ইলিয়াস কাঞ্চন দু:খ প্রকাশ করে আরো বলেন, তার গাওয়া অসংখ্য গানে আমি ঠোট মিলিয়েছি। শুধু তার গাওয়া গান নয় তার অসংখ্য উল্লেখযোগ্য গান যে গানগুলো আজ সুপারহিট তালিকায় রয়েছে সেগুলোর প্রায় বেশীরভাগ গান আমার সিনেমায় আমার ঠোটে দর্শকরা দেখতে পেয়েছে। আমার ক্যারিয়ারে তার গাওয়া গান এবং আমি দুজন যেন দর্শক হৃদয়ে অতপ্রতভাবে মিশে আছি।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, বাংলাদেশের আধুনিক ও চলচ্চিত্রজগতের কালজয়ী অনেক গান এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে সমৃদ্ধ হয়েছে। সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ, প্রেম-বিরহ—সব অনুভূতির গানই তিনি গেয়েছেন। এন্ড্রু কিশোর ছিলেন এদেশের সংগীত অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাংলা গানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী এ শিল্পীর মৃত্যু সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বিরাট ক্ষতি। দেশীয় সংস্কৃতির উৎকর্ষ সাধনে এবং দেশে ও দেশের বাইরে বাংলা সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বকরণে এই কালজয়ী শিল্পীর অসামান্য অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: