চট্টগ্রামের মিনা যেভাবে হয়ে উঠেছিলেন কবরী

ঢাকা, ১৭ এপ্রিল – ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী মিনা পাল। বয়স ১৩। থাকেন চট্টগ্রামে। একটা কিশোরীর ভূমিকার অভিনয়ের জন্য তাঁকে আবিষ্কার করেছিলেন পরিচালক সুভাষ দত্ত। সিনেমার নাম ‘সুতরাং’, সময় ১৯৬৪ সাল। এরপর আর পিছনে ফিরেতে হয়নি; চট্টগ্রামের সেই মিনা পাল হয়ে উঠেছিলেন ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরী।

২০১৭ সালে জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই গল্পে কবরী জানিয়েছিলেন, ‘যখন কাজ শুরু করি, তখন আমার বয়স ১৩ বছর। ক্লাস সিক্সে পড়ি। সুভাষ দত্ত একটা কিশোরীর ভূমিকার জন্য খুঁজে আমাকে পেয়ে যান। সাংস্কৃতিক পরিবারে মানুষ হয়েছি৷ আমার মা পুঁথি পড়তেন, ভাই-বোনেরা নাচতেন-গাইতেন, ছোট ভাই তবলা বাজাতেন। আমি নাচ করতাম। তবে আগে অভিনয় করিনি। যখন আমি অফার পেলাম, তখন বাবা খুবই উৎসাহিত হলেন। মা দিতে চাননি। উনি বললেন, এর পড়াশোনা নষ্ট হয়ে যাবে। পরিবার একটু রক্ষণশীল তো ছিলই। আমার মায়ের ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে যায়। তিনি অনেক দূর পড়াশোনা করতে পারেননি৷ তাই তার খুব শখ ছিল, মেয়েকে পড়াবেন।’

আরও পড়ুন : কবরীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

প্রথম সিনেমার সময়ই তাঁর নতুন নাম হয় কবরী। ২০১১ সালে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রথম সিনেমার গল্পে কবরী জানিয়েছিলেন, ‘চোখ তুলে তাকাতে সাহস পেতাম না, খুব লজ্জা পেতাম। সব দত্তদা (সুভাষ দত্ত) শিখিয়েছেন। কিন্তু প্রথম সিনেমার (সুতরাং) এর পর আমাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি।’

এরপরের দুই দশকে ‘রংবাজ’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘দ্বীপ নেভে নাই’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘সুজন সখী’, ‘সারেং বৌ’য়ের মত বহু ব্যবসা সফল এবং আলোচিত সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেন।

সূত্র : এন টিভি
এন এ/ ১৭ এপ্রিল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: