নারী তান্ত্রিকের কাটা মাথা হাতে নিয়ে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে ‘কালো জাদুর’ মাধ্যমে এক যুবককে হত্যার অভিযোগে এক নারী তান্ত্রিককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ওই নারীকে হত্যার পর তার কাটা মাথা নিয়ে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণও করেছেন এক ব্যক্তি। বুধবার ঝাড়খণ্ডের সাহিবগঞ্জ জেলার মেহেন্দিপুর গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মেহেন্দিপুর গ্রামে গত তিন দিন আগে জ্বর, কাশিতে মারা যান স্বাধীন টুড্ডু নামের এক যুবক। কিন্তু ওই যুবকের বাবা ৫৭ বছর বয়সী সকাল টুড্ডু অভিযোগ তুলেন , তারা ছেলেকে কালো জাদু দিয়ে হত্যা করেছে মাতলু চৌরাই নামের ওই নারী তান্ত্রিক। এই ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে সকাল টুড্ডু তার ছেলের হত্যার প্রতিশোধ নিতে গ্রামবাসীদের নিয়ে ওই নারী তান্ত্রিকের বাড়িতে হামলা চালান। ওই সময় ওই তান্ত্রিক নারীর গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরের দিন অর্থাৎ বুধবার সকালে ওই নারীর মরদেহ নিয়ে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন সকাল টুড্ডু।

অভিযুক্ত সকাল টুড্ডু পুলিশকে জানান, ওই নারী তার ছেলেকে বলেছিলেন যে সন্ধ্যার মধ্যেই তার ছেলে মারা যাবেন। তার কথা সত্য হওয়ায় ছেলের মরদেহ বাড়িতে রেখেই হত্যার প্রতিশোধ নিতে যান সকাল টুড্ডু।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা অরভিন্দ কুমার সিং বলেন, ওই যুবকের কিছু রোগ ছিল তাই তিনি মারা গেছেন। তবে টুড্ডু মনে করেন তার ছেলেকে কালো জাদু করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার আরো তদন্ত করছি।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে গত ছয় বছরে ‘কালো জাদু’ বিদ্যা অনুশীলনের অভিযোগে ২২৮ জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৫ সালে ঝাড়খণ্ডের প্রত্যন্ত এক গ্রামে ‘ডাকিনীবিদ্যা’ বা ‘কালো জাদু’ অনুশীলনের অভিযোগে পাঁচ নারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসী।

ইত্তেফাক/এআর

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: