দাস ব্যবসায়ী কলস্টনের স্থানে কৃষ্ণাঙ্গ বিক্ষোভকারীর ভাস্কর্য

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের জেরে গত মাসে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে বিক্ষোভকারীদের উপড়ে ফেলা সপ্তদশ শতাব্দীর দাস ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড কলস্টনের মূর্তির জায়গায় এবার বসানো হয়েছে এক কৃষ্ণাঙ্গ বিক্ষোভকারীর ভাস্কর্য। ব্রিটিশ শিল্পী মার্ক কুইন এই ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। বুধবার মার্ক কুইনের দলই কৃষ্ণাঙ্গ জেন রিডের ভাস্কর্যটি স্থাপন করেছে।

‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকা জানায়, ব্রিস্টলে উত্তাল বিক্ষোভের সময় কলস্টনের মূর্তি টেনে নামানোর পর ঐ পিলারের ওপর কৃষ্ণাঙ্গ বিক্ষোভকারী জেন রিডের দাঁড়িয়ে থাকার একটি ছবি তোলা হয়েছিল। জেন রিড ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক নারী। ভস্কর্যটি তার আদলে মুষ্টিবদ্ধ হাত উপরে তোলা বিক্ষোভের ভঙ্গিতেই তৈরি করা হয়েছে।

ইন্সটাগ্রামে এক পোস্টে শিল্পী মার্ক কুইন লেখেন, “স্থানীয় বাসিন্দা জেন রিড এবং আমি মিলে ব্রিস্টলে এডওয়ার্ড কলস্টনের সরিয়ে ফেলা মূর্তির ফাঁকা বেদিতে নতুন একটি অস্থায়ী মূর্তি ‘এ সার্জ অব পাওয়ার (জেন রিড) ২০২০’ স্থাপন করেছি।” মার্ক জানান, এই মূর্তি বসানোর জন্য শহর কর্তৃপক্ষর কাছ থেকে কোনো অনুমতি চাওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে কোনো অনুমতি দেয়নি। ব্রিস্টলের মেয়র বলেছেন, কলস্টনের জায়গায় কী বসানো হবে শহরের জনগণেরই সে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৫ মে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে জাল নোট ব্যবহারের অভিযোগে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশ নির্মমভাবে তাকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বর্ণবাদ বিরোধী ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। যার ঢেউ লাগে যুক্তরাজ্যসহ গোটা বিশ্বে। নানা জায়গায় বর্ণবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলে বিক্ষোভকারীরা।

ঐ সময়ই বিক্ষোভকারীরা ব্রিস্টল সিটি সেন্টারে থাকা দাস ব্যবসায়ী কলস্টনের মূর্তি টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। যে ঘটনা নানা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবরের শিরোনাম হয়েছিল। কলস্টন ১৬৭২ সাল থেকে ১৬৮৯ সাল পর্যন্ত জাহাজে করে আফ্রিকা থেকে ধরে আনা প্রায় ৮০ হাজার কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ, নারী ও শিশুকে দাস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করেছিলেন। সূত্র: রয়টার্স

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: