চীন বিরোধিতায় একজোট যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কে দ্বন্দ্ব চলছে। করোনা মহামারির জন্য প্রকাশ্যে চীনকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই চীনকেই বড় ইস্যু করতে চাইছেন তিনি। এজন্য প্রায় প্রতিটি সমাবেশে চীনের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। সর্বশেষ দুই দফা চীনের কর্মকর্তা ও নেতাদের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে গত সপ্তাহে চার চীনা কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া হংকংয়ে চীনের নিরাপত্তা আইন কার্যকর করার পরিপ্রেক্ষিতে চীনা কর্মকর্তাদের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। চীনও ইতিমধ্যে পালটা পদক্ষেপ নিয়েছে। দুই রিপাবলিকান সিনেটরসহ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেইজিং। এর পরিপ্রেক্ষিতে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সব সদস্যের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শনিবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেছেন, এটা হলে যুক্তরাষ্ট্র ১৪০ কোটি মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে যখন উত্তেজনা চলছে ঠিক তখনই ওয়াশিংটনের পথ অনুসরণ করার চেষ্টা করছে লন্ডনও! হংকংয়ে চীনের নিরাপত্তা আইন কার্যকর করার পর যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে ঠিক তখনই হংকংয়ের প্রায় ৩০ লাখ বাসিন্দাকে যুক্তরাজ্যে ‘বসবাস করার ও পরিশেষে নাগরিকত্বের আবেদন করার’ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার পর ব্রিটেনকে সতর্ক করেছে চীন।

এর মধ্যেই গত সপ্তাহে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় হুয়াওয়ের সরঞ্জাম (যন্ত্রাংশ) নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ধাপে ধাপে হুয়াওয়ের সব সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হবে। এখন থেকে যুক্তরাজ্যের আর কোনো টেলিকম অপারেটর হুয়াওয়ে থেকে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার সরঞ্জামাদি ক্রয়ের অনুমোদন পাবে না। আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে।

অন্যদিকে এরই মধ্যে হুয়াওয়ের যেসব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলো সময় পাবে সাত বছর। অর্থাত্, ২০২৭ সালের মধ্যে হুয়াওয়ের সব সরঞ্জাম ত্যাগ তথা হুয়াওয়েকে বাদ দেবে তারা।

ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থানের বিষয়ে সিএনএনের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, হুয়াওয়ে থেকে ব্রিটিশ সরকার মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য-চীনা সম্পর্কের তথাকথিত সোনালি যুগের অবসানের ইঙ্গিত এসেছে। এর মাধ্যমে হয়তো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতে যুক্তরাষ্ট্রের মতো কঠোর পথ অনুসরণ করার চেষ্টা করছে যুক্তরাজ্যও।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: