বইতেই নাকাল ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর কয়েক মাস বাকি। করোনা ভাইরাস, চীন, রাশিয়া, ভারত, ভেনিজুয়েলা, ইরান ও আফগানিস্তান ইস্যুতে ঝামেলায় আছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত একের পর এক বই সমস্যা আরো বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে অতি সম্প্রতি তার ভাতিজি এবং সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার প্রকাশিত বইয়ে বিস্ফোরক সব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে যা সত্যিই তার আগামী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভয়ংকর! তার জন্য এসব ঘটনা মোটেই সুখকর নয়। প্রকাশে বাধা দিয়েও না পারায় বইতেই নাকাল হয়ে পড়েছেন ট্রাম্প। তাই তো বিরোধী জো বাইডেন যতটা না বিপজ্জনক তার চেয়ে বেশি ভয়ংকর তারই আপনজন।

শঠতাই ট্রাম্পের ধনী হওয়ার মন্ত্র!

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাতিজি মেরি লিয়া ট্রাম্পের বই। শিরোনামের বাংলা অনুবাদ—‘হয় খুব বেশি, নয় তো কম :আমার পরিবার থেকে কীভাবে তৈরি হলো বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এক মানুষ’। ভাতিজির বইয়ে ব্যক্তি হিসেবে ট্রাম্প সম্পর্কে ক্ষতিকারক বিষয় এখন জনসমক্ষে। প্রথম দিনেই প্রায় ১০ লাখ কপি বিক্রি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মনস্তাত্ত্বিক হিসেবে মেরি ট্রাম্প ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নার্সিসিস্ট বা স্বকামী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, ব্যক্তি হিসেবে তার চাচা এমন সংজ্ঞার নয়টি পূর্বশর্তই পূরণ করেন। বইয়ে ট্রাম্পের পারিবারিক জীবন তথা বাবা ও চাচাকে ঠকিয়ে কোটি কোটি ডলার আয় করা, কর ফাঁকি তথা ব্যবসায়িক শঠতার বিষয়টি স্মৃতিকথায় তুলে ধরেছেন মেরি ট্রাম্প। অন্যকে পরীক্ষায় বসিয়ে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিলেন ট্রাম্প। মেরি ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে চাচার অভিষেকের দিনটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কালো দিন। কারণ চাচারা তাকে ও তার ভাইকে ঠকিয়েছেন যা নিয়ে মামলাও হয়েছে আদালতে।

ব্রিটেন পরমাণু শক্তিধর, জানেন না ট্রাম্প

এর কিছুদিন আগে প্রকাশিত হয় ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের বই। বোল্টন তার বইয়ে ট্রাম্প সম্পর্কে কিছু বিস্ফোরক দাবি করেছেন। যেমন ফের প্রেসিডেন্ট হতে চীনা প্রেসিডেন্টের সহায়তা চাওয়া, চীনে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের আটকে রাখাকে সঠিক, ফৌজদারি তদন্ত কাজে নাক গলানো, ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করলে দারুণ হবে এবং এই দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রেরই অংশ। এসবই ট্রাম্পের মন্তব্য। আবার ব্রিটেন পরমাণু শক্তিধর দেশ তা না জানা এবং ফিনল্যান্ড রাশিয়ার অংশ কি না সেই বিষয়ে শীর্ষ সহযোগীকে জিজ্ঞাসা করা ট্রাম্পের জন্য কতটা আনন্দের!

সংসার ভাঙছে ট্রাম্পের!

ট্রাম্পের সাবেক রাজনৈতিক সহযোগী ওমারোসা এম নিউম্যান ‘আনহিঞ্জড : অ্যান ইনসাইডারস অ্যাকাউন্ট অব দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ’ নামের বই লিখেছেন। ট্রাম্পের দাম্পত্য জীবন নিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ডিভোর্স দিতে চাইছেন তৃতীয় স্ত্রী ও মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। কিন্তু ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালে এই কাজে বিপদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মেলানিয়া। কারণ মেলানিয়ার জন্ম স্লোভেনিয়ায়। পরে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। লেখিকা জানান, স্ত্রী কীভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছেন তা ভালো করেই জানেন ট্রাম্প। তিনি সেই অস্ত্র মেলানিয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে পারেন। তাই মেয়াদ শেষ হলেই মেলানিয়া বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাবেন। তবে মেলানিয়া এসব তথ্য উড়িয়ে দিয়েছেন।

নির্বাচনে জিতেও নিরানন্দ ট্রাম্প

২০১৮ সালে সাংবাদিক মাইকেল উলফের লেখা বইটির নাম- ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি : ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ’। বইয়ে নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্পের সংশয়ে পড়া, অভিষেকের দিনেও ভালো না লাগা, হোয়াইট হাউজ নিয়ে ভীতি, ইভাঙ্কা ট্রাম্পের প্রথম মার্কিন নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ছেলে ট্রাম্প জুনিয়রের যোগাযোগ, ট্রাম্পের চুল নিয়ে ইভাঙ্কার মশকরা, ট্রাম্পকে মিডিয়া মোগল রূপার্ট মারডকের গাঁধা বলা এবং হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তহীনতা ইত্যাদি বিষয় উঠে আসে।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: