করোনার ধাক্কায় ভয়াবহ মন্দায় দক্ষিণ কোরিয়া

এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। প্রাণঘাতী করোনার ধাক্কায় দেশটি এখন ভয়াবহ মন্দার কবলে পড়েছে। গত বছরের তুলনায় মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে গেছে। বিগত দুই দশকের মধ্যে এতো বড় ধরণের ধাক্কার আর সন্মুখীন হয়নি তারা।

দক্ষিণ কোরিয়া মূলত রপ্তানি নির্ভর একটি দেশ। তাই তার অর্থনীতির পুরোটাই এর ওপর টিকে আছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সেখানে তেমন একটি না পড়লেও এর কারণে দেশটির রপ্তানি মুখ থুবড়ে পড়েছে। কারণ সারা বিশ্ব এখন এই ভয়াল ব্যাধির শিকার। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমদানি-রপ্তানি কমে গেছে। আর এর নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায়ও এসে পড়েছে। অর্থনীতির এই করুণ অবস্থা তাদের ১৯৬৩ সালকেও হার মানিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে দেশটির রপ্তানি কমেছে ব্যাপক হারে। আর এতে করে তাদের জিডিপিও কমে গেছে মারাত্মকভাবে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় একই অবস্থার সন্মুখীন হয়েছে জাপান ও সিঙ্গাপুর। তারাও এখন মন্দার কবলে ।

গতকাল ব্যাংক অব কোরিয়া জানিয়েছে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দক্ষিণ কোরিয়ার জিডিপি হ্রাস পেয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় অনেক বেশি। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সেখানে জিডিপি সংকুচিত হয়েছিল প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০০৩ সালের পর এটাই প্রথমবার পরপর দুই প্রান্তিকে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি সংকুচিত হলো। তাছাড়া, এবারের ত্রৈমাসিক অর্থনৈতিক সংকোচনের হারও ১৯৯৮ সালের পর সবচেয়ে বেশি। তবে, টেকসই ভোগ্যপণ্য, যেমন গাড়ি বা বাড়ির সরঞ্জামের পেছনে কোরীয়দের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ।

অর্থনীতির এই খারাপ অবস্থায়ও হাল ছেড়ে দেয়নি দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির অর্থমন্ত্রী হং নাম-কি অনেকটা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন দ্রুতই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারবেন তারা। তিনি বলেন, সরকারি ব্যয়, নগদ অর্থ বিতরণ এবং সংক্রমণের ধীরগতি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে। হং বলেন, সংক্রমণের গতি কমলে এবং বিদেশে উত্পাদন শুরু ও স্কুল-হাসপাতাল চালু হলে তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের মতো তারাও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: