৩৭০ ধারা বিলোপের প্রথম বছরেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে কাশ্মীর

গত ৫ আগস্ট পূর্ণ হলো জম্মু-কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বিলোপের ১ বছর। ৬৯ বছরের ইতিহাস পরিবর্তনের প্রথম বর্ষপূর্তি। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত এসেছে ভারতের নরেন্দ্র মোদির সরকারের কাছ থেকে। ফলে ‘বিশেষ মর্যাদা’ হারিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ এখন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। এই উপত্যকায় নেই কোনো আলাদা সংবিধান ও পতাকা।

৩৭০ ধারা বিলোপের পটভূমিটা তৈরি হয়েছিল গত বছরের ৫ আগস্টের কয়েকদিন আগে। অমরনাথের তীর্থযাত্রী এবং পর্যটকদের কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশ, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের জেরে নানা জল্পনা চলছিল উপত্যকা জুড়ে। ৫ আগস্ট সব জল্পনার অবসান ঘটে। সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। বেলা ১১টায় রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্বাক্ষর করা নির্দেশনামা পড়ে শোনান। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির আদেশবলে জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারার বিলোপ ঘটানো হলো। প্রত্যাহার করা হলো ওই ধারার অধীনের ৩৫ ধারাও।

গত বছরের আগস্ট মাসে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয় জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরের রাজপথে। এ সময়টাতেই শুরু হয় বিক্ষোভ প্রশমনের জন্য নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর পাথর নিক্ষেপের ঘটনা। একটা সময় এই মারাত্মক কাজ হয়ে উঠেছিল প্রতিদিনের আন্দোলনের একটা অংশ।

এই পাথর নিক্ষেপ যে শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বা সেনা সদস্যদের বিচলিত করার জন্য, তা নয়। ২০১৮ সালে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় মৃত্যু হয় এক সেনা সদস্যের। এছাড়াও এতে আহত হয়েছেন অগণিত পুলিশ, সেনা সদস্য এবং কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বর্তমান প্রজন্ম আগের চেয়ে বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছে। হাতেগোনা কয়েকজন, যারা তাদের নিয়ে নোংরা খেলায় মেতে উঠেছিল, তারাও থেমে গেছে। কারণ তারা জেনে গেছে, জঙ্গিবাদ দিয়ে প্রকৃতপক্ষে কিছুই পাওয়া সম্ভব না। এখানকার বর্তমান প্রজন্ম পড়াশোনায় মনযোগী। আগে যেমন প্রতিদিনই এখানে বিক্ষোভ আর পাথর নিক্ষেপ দেখা যেত, তা এখন আর হয় না।

একটি পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালে সর্বমোট ২ হাজার ৬৫৩টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে ২০১৭ সালে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সব পাথর নিক্ষেপকারীদের জন্য পাকিস্তান থেকে অর্থের যোগান এসেছিল। বিক্ষোভ প্রশমনের জন্য নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা সেনা সদস্যদের উপর পাথর নিক্ষেপের জন্য এই এলাকার তরুণদের ৫০০ রুপি করে দেয়া হতো।

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী নির্মল সিং বলেন, পাকিস্তান আমাদের সাথে চারবার সম্মুখযুদ্ধে পরাজিত হয়েছে। তাই তারা এমন পথ বেছে নিয়েছে। আর তাদের সহযোগিতা করা নেতারা, যারা নিজেদের কাশ্মীরের জনপ্রতিনিধি দাবি করে, তারা আসলে দেশদ্রোহী ছাড়া কিছু নয়।

পলওয়ামার একজন পঞ্চায়েত প্রধান আলতাফ ঠাকুর বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর কাশ্মীর এক নতুন পথ ধরে হাঁটতে শুরু করেছে। এই অঞ্চল এক সময় জঙ্গিবাদের জন্য সুপরিচিত থাকলেও নিকট ভবিষ্যতে এটি বিশ্ববাসীর কাছে একটি মডেল হয়ে উঠবে। আগে এখানে আন্দোলনের জন্য ক্যালেন্ডার বিলি করা হতো। কিন্তু এখন রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে সবার মধ্যে একটা স্বচ্ছতা আর দায়িত্ববোধ কাজ করে। এটা আসলেই খুশির বিষয়।

স্থানীয় সংবাদকর্মী তারিক ভাট জানান, সময় বদলেছে। এ অঞ্চলের মানুষ এখন শান্তিতে বসবাস করছে। তারা এ অঞ্চলে উন্নয়ন চায়। তারা কলকারখানা এবং বিনিয়োগ চায়।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: