৩৭০ ধারা বাতিলের পর ত্বরান্বিত হয়েছে কাশ্মীরের উন্নয়ন

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর জম্মু কাশ্মীরের উন্নয়ন ত্বরান্বিতভাবে হচ্ছে। বাসিন্দারা জানান, সংবিধানের ওই ধারা বাতিলের পর কাশ্মীরে আগে যে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি ছিলো সেটি অনেকটাই কমে গেছে।

এ বিষয়ে জম্মু কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের ব্যবসায়ী ওয়াসিম আহমাদ বলেন, সংবিধানের ৩৭০ ধারার কারণে ২০১৯ সালের আগস্টের আগে কাশ্মীর কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। এটি বাতিলের কারণে আমাদের জনগণ সাংবিধানিক অধিকারসহ বিভিন্ন ধরণের সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া ওই ধারা বাতিলের কারণে যে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সেটিও কঠোর হাতে সরকার দমন করেছে। ৩৭০ ধারা বাতিল করা আমাদের সরকারের একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। ৩৭০ ধারা বাতিলের আগে কাশ্মীরে অনেক বেকার যুবক ছিল। তারাই সংঘাতে জড়িয়েছিল। তবে এখন তারা সংঘাত ভুলে কাশ্মীরের উন্নয়ন কাজে অংশ নিচ্ছেন।

জানা গেছে, ৩৭০ ধারা বাতিলের পর কাশ্মীরের জনগণ এখন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে মূল্য রেশন, গ্যাস সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া ভারত সরকারের কাছ থেকে নানা ধরণের আর্থিক সুবিধাও পাচ্ছেন কাশ্মীরের দরিদ্র জনগণ।

সারওয়ার হুসাইন নামের জম্মু কাশ্মীরের এক স্কুল শিক্ষক বলেন, কাশ্মীরে এখন সংঘাতের কোনো ঘটনা নেই। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের কারণেই এমনটি হয়েছে।

কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার যুব নেতা আশিক হুসাইম্ন বলেন , ৩৭০ ধারার কারণে কাশ্মীরে সংঘাতের ঘটনা ঘটতো। এখন আর তেমন কিছু দেখা যায় না। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের আগে কাশ্মীরে প্রায়ই আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ে মারার ঘটনা ঘটতো। আর এতে আইন -শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটতো নিয়মিত । ২০১৬ সালে কাশ্মীরে ২ হাজার ৬৫৩টি এমন ঘটনা ঘটে। তখন তদন্ত করে দেখা যায় যে পাকিস্তানের অর্থায়নেই কাশ্মীরের এমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটানো হতো। জানা গেছে, প্রত্যেক কাশ্মীরের যুবককে ৫০০ রুপি দিয়ে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর ওপর পাথর ছুঁড়ে মারার নির্দেশ দেয়া হতো। তবে গত বছরের আগস্টে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার পর এই ঘটনা ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমে গেছে।

ইত্তেফাক/এআর

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: