শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ফল না মানলে কী হবে

ওয়াশিংটন, ০৯ নভেম্বর- মার্কিন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার দৌড়ে হেরে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জো বাইডেন হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এখনো এই ফল মেনে নিয়ে কোনো বক্তব্য আসেনি ট্রাম্পের কাছ থেকে। তিনি যদি শেষ পর্যন্ত এই ফল না মানেন তবে কী হবে—এখন সেই প্রশ্নই উঠছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নির্বাচনে বিজয়ের পর ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন, তখন সেই অনুষ্ঠানে জো বাইডেন উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বাইডেনের অভিষেকে ট্রাম্পের উপস্থিত থাকার বিষয়টি এখনো কষ্টকল্পনা। এমনকি ট্রাম্প নির্বাচনের ফল মেনে নিচ্ছেন—সে দৃশ্যটিও এখনো ঠিক স্পষ্ট নয়।

পরাজিত হলে নির্বাচনের ফলকে চ্যালেঞ্জ করবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে তিনি সুপ্রিম কোর্টকেই নিজের ত্রাতা মানছেন। কিন্তু আদালতে গিয়েও তিনি ব্যর্থ হলে তাঁর ওপর পরাজয় মেনে নেওয়ার জন্য জনগণের চাপ বাড়বে।

মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের ফল মানুন বা না মানুন, নির্বাচনের ফল অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বোচ্চ ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পর্কিত রেওয়াজ ভাঙতে পারেন। এরই মধ্যে কিছু রেওয়াজ তিনি ভেঙেছেন। নির্বাচনের ফলে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হওয়ার পর পরাজিত প্রার্থী বিজয়ী প্রার্থীকে ফোন করে অভিনন্দন জানানোটা যুক্তরাষ্ট্রে রেওয়াজ। এই রেওয়াজ ট্রাম্প ভেঙেছেন। এটি মার্কিন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি কালো দাগ হলেও তা ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বড় কোনো সমস্যা নয়। কারণ, এটি রেওয়াজ হলেও বাধ্যতামূলক কোনো আচরণবিধি নয়।

২০১৮ সালে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে বিজয়ী হন ব্রায়ান কেম্প। বিষয়টি বোঝাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে, সেবার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্টেসি অ্যাডামস এই ফল মেনে নেননি। অভিযোগ তোলেন ভোট জালিয়াতির। তিনি কখনোই ব্রায়ান কেম্পকে বিজয়ী হিসেবে মেনে নেননি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর হিসেবে ব্রায়ান কেম্পই দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে নির্বাচনের ফল যখন সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রকাশ হয়েছে, তার পর প্রশাসনিক কাঠামোই বাকি কাজটুকু করে দিয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক ইতিহাসে নেই। কিন্তু তারপরও ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি এমন কিছু করেন, তবে কোনো সমস্যা নেই। ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়ক কাঠামোটি নিজের মতোই কাজ করবে। সে ক্ষেত্রে ট্রাম্প কী করলেন, না করলেন, তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপ থাকবে না কারও।

হ্যাঁ, নতুন প্রেসিডেন্টের কাছে বিদায়ী প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে একেবারেই যে কিছু করার নেই, তা নয়। নিয়ম অনুযায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিতে হয়, যা ট্রাম্প এরই মধ্যে করেছেন। ট্রাম্প ও বাইডেন শিবির অনেক আগে থেকেই এ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ফলে এ ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা নেই। বিষয়টি সুন্দর হচ্ছে, নাকি হচ্ছে না—সেটিই এখন মুখ্য প্রশ্ন। পরাজয় না মেনে সবকিছু থেকে বিযুক্ত থেকে ট্রাম্প ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াটিকে অসুন্দর করতে পারেন। আবার হাসিমুখে বাইডেনের অভিষেকে উপস্থিত থেকে ক্ষমতার বদল মুহূর্তটিকে সুন্দর করে নিজের সম্মান বাড়াতে পারেন তিনি। যেটাই করুন, আগামী ২০ জানুয়ারি বাইডেনের অভিষেক নিয়ম অনুযায়ীই হবে।

সূত্র: প্রথম আলো
আডি/ ০৯ নভেম্বর

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: