ভাই-বোনের ঝগড়া সামলাবেন কীভাবে

বোন-বোনের মধ্যে বা ভাই-বোনের মধ্যে ঝগড়া নতুন ব্যাপার নয়। মায়ের পাশে কে শোবে, ভালো খেলনাটা কে নেবে, এই সব ছোটখাটো বিষয়ে ভাই বোনের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকে। দুই ভাই, দুই বোন বা দুই ভাই বোনের মধ্যে সম্পর্ক একেবারেই ভালো হয় না অনেক সময়।

কোনও পরিবারে একের বেশি সন্তান থাকলেই এই ধরনের অশান্তি দেখা দেবেই। তবে কোনও কোনও পরিবারে ভাই বোনের ঝগড়া মাঝে মাঝে চরম আকার নিয়ে নেয়। বাড়ির খুদেগুলো ঝগড়া করলে অবশ্যই বাবা মা হিসেবে তা আপনাদের অশান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু তার জন্য নিজেদের ধৈর্য্য হারালে চলবে না। যতটা সম্ভব শান্ত থেকে ধৈর্য্য ধরে পরিস্থিতির মোকাবিলা করুন। দেখে নিন এই ঝগড়া সামলাবেন কী ভাবে।

Sibling rivalry featured  sisters-arguing-and-stressed-mom-picture-id947055478 | Montgomery Community  Media

* ভাই কিংবা বোন আসার খবর পেয়ে সাধারণত ছোটোরা খুশি হয়। কিন্তু পরিবার পরিচিতদের কিছু মানুষ খানিকটা মজার ছলেই ছোটো শিশুকে বলতে থাকে যে মা-বাবা এবার আর তাকে ভালোবাসবে না। ছোটো ভাই কিংবা বোনকেই বেশি ভালোবাসবেন। এসব শুনে ছোটোদের মনে হিংসে ঢুকে যায়। তার উপর যখন সত্যিই ছোটো ভাই বা বোনকে মা-বাবা যত্ন নিতে শুরু করে শিশু ভাবে তাকে আর কেউ ভালোবাসেন না।

Siblings fighting: How to keep the peace - Today's Parent

* মনে রাখবেন হাতের পাঁচটা আঙুল এক রকম হয় না। তাই আপনার দুই সন্তান পুরো একরকম হবে এরকম মনে করার কোনও কারণ নেই। কেউ হয়তো পড়াশোনায় বেশি ভালো, কেউ খেলাধুলোয়। দুজন সন্তানের মধ্যে কোনও দিন তুলনা টানতে যাবেন না। কোনও একজনের প্রতি আপনার বেশি ভালোবাসা এবং নির্ভরতা থাকলেও তা কোনও ভাবে আপনার আচার ব্যবহারে যেন বোঝা না যায়। দুজনের প্রতি আপনার আচরণের বৈষম্য কিন্তু দুই সন্তানের মধ্যে অশান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

* দুজনের মধ্যে মিটমাট করানোর সময়ে আগে দুজনের কথাই মন দিয়ে শুনবেন। তারপর ঠান্ডা মাথায় দুজনকেই বোঝান। হতে পারে কোনও একজন বেশি দোষ করে ফেলেছে। তাই বলে সবটা বকাঝকা একজনকেই করবেন না। দুজনকেই বুঝিয়ে বলুন। প্রয়োজনে একটু কড়া হয়ে বোঝান যে বেশি দোষ করেছে তাকে।

* ভাই বোনের মধ্যে ঝগড়া হতেই পারে। তার জন্য যেন দুজনে কথা বলা বন্ধ না করে দেয়। বাবা মা হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব এটা খেয়াল রাখা যে আপনাদের সন্তানরা পরস্পরের সঙ্গে যথেষ্ট কথা বলা এবং খেলাধুলো করছে তো। বড়দের মতো ছোটদের মধ্যেও দুজন দুজনের সঙ্গে কথা বললে অনেক ভুল বোঝাবুঝি মিটে যায়।

* সব সময় সন্তানের ঝগড়ায় আপনি মধ্যস্থতা করতে যাবেন না। চেষ্টা করুন যাতে ওরা নিজেরাই নিজেদের অশান্তি মিটিয়ে নিতে পারে। নিজেদের সমস্যা নিজেরা মেটাতে পারলে ভবিষ্যতের অনেক বড় সমস্যাও নিজেরা মিটিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করতে পারবে আপনার সন্তানেরা।

ইত্তেফাক/এফএস

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: